সারিয়াকান্দিতে এক নারীরকে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।থানায় ওই নারীর অষ্টাদশী বাবা এই মামলা করেছেন। অপরদিকে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর বিরুদ্ধেও বগুড়া সদরের সাবগ্রাম মাস্টারপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জ্যোতি খাতুন (২৬) মানব পাচারের অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। পৃথক দুইটি মামলায় সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ গণধর্ষণের শিকার ওই নারী সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছেন।
গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাবার দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, জ্যোতি খাতুন নামে নারীর বাসার পাশে ওই নারী বসবাস করতেন। এই সুবাদে তার বোন জুঁই খাতুনের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে এব; জুঁই খাতুনকে সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের চর হরিণা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে রিপন মিয়ার (২৭) সাথে বিয়ে দেন।কিন্তু মাঝে মাধ্যই জুঁই স্বামীর সাথে ঝগড়া করে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর কাছে চলে আসতেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জুঁই খাতুন ধর্ষণের শিকার নারীকে জানায় যে, সে তার স্বামীর অত্যাচারে বাড়িতে আবারো থাকতে পারছে না। এই কথা শুনে ধর্ষনের শিকার নারী জুঁইকে, আতিকুল ইসলাম (২৮) নামের একজন সিএনজি চালককে হাটফুলবাড়ি স্ট্যান্ডে জুঁইকে সাথে নিয়ে আসতে বলেন । পরে জুঁইকে সিএনজি নিয়ে বগুড়া রওনা দেয়ার সময় জুঁইয়ের স্বামী রিপন মিয়া ও তার গ্রামের ভিক্ষু মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান গিট্টু (২৮), মুক্তার আলীর ছেলে আবু রায়হান (২৪) এবং মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল করিম (২৪) তাদের জোরপূর্বক পথরোধ করে তাদের নিজের গ্রামে নিয়ে যায়। এরপর চর হরিণা মোঃপুকু মিয়ার বাড়িতে তাদের বেধড়ক মারপিট করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিও আদায় করে নেন। পরে ওই নারীকে রিপন মিয়া সহ উল্লেখিত ৪ জন আসামি জোরপূর্বক পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন। পরের দিন সকাল ৯ টার দিকে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী এবং আতিকুল ইসলামকে চিকিৎসার সারিয়াকান্দি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুলিশের হেফাজতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ এনে জ্যোতি খাতুন মামলায় উল্লেখ করেন, গণধর্ষণে শিকার ওই নারীর সাথে তার বোন জুঁই খাতুনের সমকামিতার সম্পর্ক ছিল এমন অভিযোগ করা হয় । সমকামিতার সম্পর্ক টিকে রাখতে তার বোন বারবার তার স্বামীকে ছেড়ে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর কাছে চলে আসতেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৯জুন) ওই নারী জুঁই খাতুনকে পতিতাবৃত্তি করাতে সিএনজি চালক আতিকুল ইসলামকে সাথে নিয়ে তাকে প্রলোভন দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। পরে তা জানতে পেরে তাদের হাটফুলবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে এসেছিলেন এবং পরের দিন (১০জুন) তাদের সারিয়াকান্দি থানায় পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। এই বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছেন।
এঘটনা নিয়ে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে মানবপাচার এবং গণধর্ষণ নিয়ে ২ টি মামলা থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। মানবপাচার মামলার আসামি হিসেবে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী এবং সিএনজি চালক আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরদিকে গণধর্ষণ মামলার আসামি হিসেবে রিপন মিয়া এবং আতিকুর রহমান গিট্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের বগুড়া আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি আরো বলেন, মামলা দুইটি তদন্তানাধীন রয়েছে। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকত ঘটনা উদঘাটন করতে আমাদের পুলিশ পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন।