যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি অর্থের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র।
সূত্রটি বলছে, ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে প্রস্তাবিত এই তহবিলের লক্ষ্য ইরানে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উভয় পক্ষকে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া। তহবিলটি সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি খাতের অর্থায়নে গঠিত হবে; এতে কোনো সরকারি অর্থ বা অনুদান থাকবে না। খবর রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধ অবসান, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেন।
সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি ইতোমধ্যে এই তহবিলে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন শিল্প ও লজিস্টিকস।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে নতুন এই তহবিল গঠনের ধারণা সামনে আসে।
তহবিলটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কার্যকর হবে না। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্যতা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ এবং কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি মেনে নেওয়ার মতো শর্ত পূরণ করে, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পেতে পারে।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন থাকা ইরান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুতের অধিকারী।