২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাসের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে নতুন করে প্রবেশ করেছে ১ লাখ ৫২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা। শুধু মে মাসেই ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গা নতুন করে নিবন্ধিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বর্তমানে ক্যাম্পগুলোতে মোট ১১ লাখ ৯৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা চিহ্নিত করা গেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ২০১৭ সালের পর বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যযুক্ত সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার খোঁজে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। শরণার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ নারী ও শিশু, আর ১২ শতাংশ প্রতিবন্ধী, একক অভিভাবক, গুরুতর চিকিৎসা সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক- যাদের আইনি ও শারীরিক সুরক্ষার বিশেষ প্রয়োজন। এই বাস্তবতা শুধু মানবিক সংকটই নয়, বরং বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপরও বিরাট চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও এর সমাধান হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি স্থবির হয়ে আছে, তার মধ্যেই আবার নতুন করে তারা দেশে ঢুকছে। আমাদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দ্বিমুখী কৌশল নিতে হবে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে আরও জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে, যাতে তারা নিজ নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয়ত, ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে তারা চরম দুর্দশায় না পড়ে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করবে। মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন দেশের সামাজিক স্থিতি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য ভেঙে না পড়ে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা রাখতে হবে।