নবায়নযোগ্য জ্বালানি

দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার অপরিহার্য

এফএনএস
| আপডেট: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম | প্রকাশ: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার অপরিহার্য

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ঘিরে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর ছাড়, বৈদ্যুতিক যানবাহনে উৎসাহ এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। তবে সিপিডি বলছে, শুধু বরাদ্দের অঙ্ক দিয়ে খাতের প্রাপ্তি বিচার করা যাবে না; বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারই আসল চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির বোঝা এখনও বড় সমস্যা। বিপিডিবির লোকসান সমন্বয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, আর উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা ও সক্ষমতা ভাড়া ভর্তুকির চাপ বাড়াচ্ছে। সিপিডি স্পষ্ট করেছে, ভর্তুকি কমানোর নামে দাম বাড়িয়ে চাপ গ্রাহকের ওপর চাপানো যাবে না; বরং উৎপাদন ব্যয় যৌক্তিক করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর ছাড়ের ঘোষণা যুগান্তকারী হলেও বাস্তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বরাদ্দ সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে মোট উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় ৯৮ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে যাচ্ছে, নবায়নযোগ্য অংশ মাত্র ২ শতাংশ। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে। আরও উদ্বেগজনক হলো, চলতি অর্থবছরে অন্তত ১১টি নবায়নযোগ্য প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য সুবিধা বহাল রয়েছে- এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি, কয়লা আমদানিতে শুল্ক সুবিধা এবং দেশীয় কয়লা উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে দুর্বল করছে। আমাদের মতে, বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে কার্যকর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার অপরিহার্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গ্রিড আধুনিকায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং কৃষিতে সৌর সেচে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিতে হবে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য কর-সুবিধা পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হলেও কৃষিখাতে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার সমপ্রসারণে বাজেটে প্রত্যাশিত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, এ বিষয়টিতেও লক্ষ্য দেওয়া উচিত।