প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের প্রজনন গভীর সংকটে

এফএনএস | প্রকাশ: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের প্রজনন গভীর সংকটে

শিল্পবিপ্লবের পর থেকে মানুষ যত বেশি আধুনিক হয়েছে, ততই প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েছে। মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি এই বস্তুটি ধীরে ধীরে প্রকৃতির জন্য দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নদীর জলজ প্রাণীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেসব নদী এক সময় মাছের স্বর্গরাজ্য ছিল, আজ সেগুলোর তলদেশে জমছে স্তরে স্তরে প্লাস্টিক। নদীর স্বচ্ছ জল এখন কালচে, দুর্গন্ধযুক্ত এবং প্রাণশূন্য হয়ে পড়ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য সরাসরি মাছের শরীরে ঢুকে মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি জটিল হলেও খুবই বাস্তব। মাছ সাধারণত জলের ভেতর ভাসমান ছোট ছোট বস্তু শনাক্ত করে খাবার সংগ্রহ করে। যখন খাবারের মতো দেখতে বিভিন্ন প্লাস্টিক কণা পানিতে ভাসে, তখন মাছ সেগুলোকে খাবার ভেবে গিলে ফেলে। একটি ছোট প্লাস্টিক কণাও মাছের পেটে গিয়ে জমে থাকলে তা ধীরে ধীরে আকার বাড়ায় এবং মাছের হজম প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি করে। মাছ খাবার খেতে পারে না, দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত অপুষ্টিতে মারা যায়। নদী, খাল, বিল, হ্রদ ও সমুদ্র-বাংলাদেশের জলজ সম্পদ একসময় ছিল প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যরে আশ্রয়স্থল। কিন্তু এখন সেই জলাশয়গুলো ক্রমেই হারাচ্ছে প্রাণ। একদিকে শিল্পবর্জ্য, অন্যদিকে প্লাস্টিক ও পলিথিনের আগ্রাসন-সব মিলিয়ে পানির নিচের জীবন যেন নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। প্লাস্টিক বর্জ্য এখন এক নীরব ঘাতকের মতো জলজ প্রাণীর জীবন শেষ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে মাছ। নীরবে, অদৃশ্যভাবে প্লাস্টিকের বিষ ছড়িয়ে পড়ছে পানির নিচে, মৃত্যুর ফাঁদে পড়ছে জলজ প্রাণ। মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের রক্তে ও শরীরে প্রবেশ করে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, প্রজননক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, এমনকি পরবর্তী প্রজন্মের ওপরও জেনেটিক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক-মিশ্রিত পানিতে থাকা মাছের ডিম ফোটার হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। এর অর্থ হলো নদীর ভবিষ্যৎ মাছের সংখ্যা ভয়াবহভাবে হ্রাস পাচ্ছে এবং এর ক্ষতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। মানুষের অসচেতনতার পাশাপাশি অবকাঠামোগত দুর্বলতাও এই সমস্যার অন্যতম কারণ। জাতীয় ও আঞ্চলিক উভয় ভাবেই যতটা সম্ভব প্লাস্টিক, বিশেষ করে একক-ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও বর্জনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাই সময় এসেছে এই সমস্যাকে কেবল পরিবেশগত সংকট হিসেবে নয়, বরং জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচনা করার। আমাদের প্রতিটি মানুষের উচিত দায়িত্ব নিয়ে নিজের ভূমিকা পালন করা। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, সঠিক জায়গায় বর্জ্য ফেলা, সচেতনতা বৃদ্ধি এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই এক সময় বড় পরিবর্তনের জন্ম দেবে।