আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, বললেন জামায়াত আমির

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ২০ জুন, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, বললেন জামায়াত আমির
ছবি, সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।”

সেই অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি শোষণ, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমি যুব সমাজের প্রতি আর একবার প্রাণ খুলে আহ্বান জানাচ্ছি-উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আর বলেন, “বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করার পরিণতি কি হতে পারে দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না। খুলনাবাসী আপনারা যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায়টিই আপনাদের কাছে চেয়েছিলাম। আর আমরা বলেছিলাম, এই রায় বাস্তবায়ন করা হবে সংসদে গিয়ে, আমাদের দায়িত্ব। চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যা আছি তাই নিয়ে আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাব।”

শফিকুর রহমান বলেন, শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে আমরা মেনে নিয়েছি। দেশে একটা গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। আমরা কারও বাপ-দাদার চোখ রাঙানোকে পরোয়া করবো না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করবো না। আমাদের নেতৃবৃন্দ হারতে হারতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে শিখিয়ে দিয়েছেন জাতির জন্য প্রয়োজনে তোমাদেরকেও এই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। খানজাহান আলী, শাহাজালালের এই বাংলাদেশে জনগণ সেই মুচকি হাসি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

“আমরা জানি সহজে কানে পানি ঢ়ুকবে না, তখন সিরিঞ্জ দিয়ে যদি ঢ়ুকাতে হয়, তাহলে আমরা ঢ়ুকাব। যদি ফয়সালা সংসদে না হয়, তাহলে যেখানে কথা বলতে মাননীয় স্পীকার বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পীকারের অনুমোদন লাগে না। সেই খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর. রাজশাহী, বগুরার মাঠ সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবো না। সরকারকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, যদি এই দেশবাসী এবং আমরা দেখতে পাই আধিপত্যবাদের সামনে আপনারা মাথা নত করছেন, আপনাদেরকেও আমরা ছেড়ে কথা বলবো না। সাবধান, ২০ কোটি মানুষের ২৪ কোটি হাত আজ প্রস্তুত।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। পুশইনের নামে একটা দেশে তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গিয়েছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। এই ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম এবং শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালো হাত বাড়াক, ওইটাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি- সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে