ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে সিলেটে আলোচনা-সমালোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের খাদিম ও সিলেট মহানগর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মুফতি রায়হান উদ্দিন।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা হিসাব কাকে দেব, কেন দেব? হযরত শাহজালাল (রহ.) এই সম্পত্তি আমাদের দিয়ে গেছেন। এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি, কোনো দল বা সরকারের নয়।” দানবাক্সে তালা দেওয়ার ঘটনাকে ওলি-আউলিয়াদের প্রতি অসম্মানজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ওলি-আউলিয়ারা কখনো মারা যান না। কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক, আমরা এটাই বিশ্বাস করি।”
মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সব টাকা গ্রহণ করি না। তবে যে অর্থ গ্রহণ করি, তা খাদিমদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এ বিষয়ে কিছু গোপন করার নেই। খাদিমরা যেমন অর্থ গ্রহণ করেন, তেমনি দিন-রাত পরিশ্রমও করেন।” নিজের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি মহানগর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। পাশাপাশি আমি এখানের খাদিম। এটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি।” এদিকে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, “দরগা একটি স্বতন্ত্র, আধ্যাত্মিক ও পবিত্র স্থান। এখানে আল্লাহর আইন চলবে। দরগাকে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনা উচিত হবে না।” শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণের দানবাক্সের ওপর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাজারের দান কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করেন। পরে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দানবাক্সে তালা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে মাজারের দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয় বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।