সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফরে রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে শুরু হওয়া এই সফরের পর তিনি সরাসরি চীন যাবেন। ছয় দিনের এই সফরকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিকেলে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। মালয়েশিয়ায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে যাবেন।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। তিনি বলেন, “এই সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব, হালাল অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জুন পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং পরে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংশ্লিষ্ট দুটি দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সন্ধ্যায় চীনের দালিয়ানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা সামার দাভোস ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি হবে আলোচনার মূল বিষয়।
চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। পরদিন ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে বলে আশা করছে সরকার।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, “আমরা এটিকে একটি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি।” তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলে ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য থাকবেন।
সরকারি সূত্র বলছে, চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি অবকাঠামো, প্রযুক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। সফরকে ঘিরে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এও বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টদের আশা, মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে নতুন গতি দেবে। সফর শেষে ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।