হালদা নদীর উপরী অংশ খনন, সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

এফএনএস (কেশব কুমার বড়ুয়া; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম) :
| আপডেট: ২১ জুন, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম | প্রকাশ: ২১ জুন, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
হালদা নদীর উপরী অংশ খনন, সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নদীর উপরী অংশ দীর্ঘদিন খননের অভাবে মৃতপ্রায় হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশে খাল ও নদী খননের কর্মসূচি গ্রহন করেছে। তারই অংশ হিসেবে হালদা নদীর পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলা  অংশ খনন করে মৃত প্রায় নদীর গতিপ্রবাহ বৃদ্ধি করে যুগান্তকারী কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।  নদীর সাত কিলোমিটার অংশ খনন করা হয়েছে। এতে নদী তার নির্জিব প্রান ফিরে পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

জানা যায়, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর  উৎপত্তি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকা থেকে। ৮১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য  এই নদীর একমাত্র বিশেষত্ত হলো নদীটি উৎপত্তি স্থল বাংলাদেশে এবং শেষ গন্তব্য দেশের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী হয়ে বঙ্গোপসাগরে নদী শেষ হয়েছে। প্রতি বছর মে মাস থেকে জুলাই মাসে নিদিষ্ট তিথি / জোতে মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। নদীর সত্তারঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ ডিম আহরন করে সরকারি হ্যাচারী ও মাটির কুয়ায় নদী থেকে আহরিত ডিম থেকে রেনু উৎপাদন করে বিক্রি করে। হালদা পাড়ের বিপুল সংখ্যক লোকজন ডিম সংগ্রহ করে। সাম্প্রতিক সময়ে নদীর দূষণ, ভরাটসহ নানা কারনে ডিম ছাড়ার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তবে প্রশাসন নদীতে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর নদীতে মাছ ছাড়ছে। নদীতে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ভাবে বসানো জাল ও বড়শী আটক করছে। হালদা নির্ভরশীল পরিবারের মধ্যে প্রনোদনা প্রদান করে নদী থেকে মাছ শিকারে লোকজনকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে । নদী দূষণ ও মাছ শিকার রোধে নদীর দুই পাড়ের লোকজন সচেতন করতে উদ্বুদ্ধ করন সভার আয়োজন করছে প্রশাসন। হালদা রক্ষার জন্য ডিম সংগ্রহকারী, রেনু উৎপাদনকারী, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে সুপারিশ গ্রহন করে দায়িত্বশীল উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাবনা প্রেরন করছে। প্রস্তাবনা মধ্যে নদীর ভরাট অংশ খননের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনা হয়েছে। তারই অংশ হিসাবে পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মৃত প্রায় হালদা খননের বিষয়টি উঠে আসায় সম্প্রতি এই উপজেলায় হালদা নদীর ৭ কিলোমিটার ইতিমধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর গতি প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে নদীতে মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা  আশা করছেন এই অংশ  খননের ফলে মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অত্র এলাকার মানুষের জীবন জীবিকার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খনন কাজ পরিদর্শন করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা  ড. রাজু আহমেদ, মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া, মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা  মো: মাহমুদুল হাসান, মানিকছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  কাজী মাসুদুর রহমান প্রমুখ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে