আওয়ামী লীগকে রাস্তায় নামতে দেয়া হবেনা: এমপি বাবুল

এফএনএস (রওশন জাহান; মহাদেবপুর, নওগাঁ) :
| আপডেট: ২২ জুন, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম | প্রকাশ: ২২ জুন, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আওয়ামী লীগকে রাস্তায় নামতে দেয়া হবেনা: এমপি বাবুল

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেশের বিশিষ্ট টক শো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল বলেছেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। যতদিন নিষিদ্ধ আছে ততদিন তাদের রাস্তায় নামতে দেয়া হবেনা, নামতে দিবোনা, দিবোনা, দিবোনা। এখনও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে আওয়ামী দোসররা আড্ডা দেয়। আপনারা এগুলো খেয়াল রাখবেন, থানা পুলিশকে জানাবেন।”

এমপি বলেন, “বিএনপি ছাড়া এই আসনে অন্যকিছু থাকবেনা। একটি দল আসলে ধর্মীয় দল না। এরা হচ্ছে ভারতের বি টিম। এরা ৪৭ এ ভারতকে সাপোর্ট করেছে। এজন্য বক্তব্যের সময় এই গুপ্তরা ভারতকে টেনে আনে। তোমরা বেঈমান, তোমরা মুনাফেক, তোমরা ব্যাংক ডাকাত। আমরা দেখেছিলাম শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাত, আর সংসদে বলেছি ইসলামী ব্যাংকে এরা ডাকাতি করেছে ১১ হাজার কোটি টাকা।”

এমপি ফজলে হুদা বলেন, “মসজিদে কোন রাজনীতি চলবেনা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমামদের নিরপেক্ষ হতে হবে। তারা কোন রাজনৈতিক লিডার হতে পারবেন না। ইমাম সাহেবরা একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হয়ে গেছেন। কিছু কিছু মসজিদ কমিটিতে এখনও আছে আওয়ামী দোসর, ধান্দাবাজ, বাকশালী, দেশ বিক্রিকারীদের লোক। এদের পরিবর্তন করতে হবে। এই ব্যাপারে আপনারা সোচ্চার থাকবেন।” গত শনিবার বিকেলে এমপি নওগাঁর মহাদেবপুর থানা পুলিশের নবনির্মিত চারতলা ভবনের ফলক উন্মোচন শেষে থানা ভবন মিলনায়তনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে কথাগুলো বলেন। এমপি মামলা করতে আসা কারো কাছ থেকে টাকা না নেয়ায় মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুকের প্রশংসা করেন। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডমিন) মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ, মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক, উপজেলা পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম, পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাদেবপুরে এমপির রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।


এসময় অন্যদের মধ্যে থানা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মমিনুল ইসলাম চঞ্চল, সাধারণ সম্পাদক এটিএম ফিরোজ দুলু, বদলগাছীতে এমপির রাজনৈতিক সচিব ও বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউন নবী স্যান্ডো, মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু, সহ-সভাপতি, সফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস, এম, হান্নান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সাগর, হাজী আককাস, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী রওশন জাহান, হাতুড় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সেকেন্দার আলী, উত্তরগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আলী, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র, চেরাগপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান সবুজ, উপজেলা কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন অর রশিদ রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহমুদুল হাসান সুমন, হারুন অর রশিদ হারুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাফ্ফর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদস্য সচিব রিপন মাহমুদ, জেলা ছাত্রদলের নেতা এফআই ইসলাম সবুজ প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। তখন দোতলা পর্যন্ত এর ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। পরে উপরে আরো দুটি তলার জন্য বরাদ্দ করা হয় চার কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে ভবনটির কাজ সমাপ্ত না হলেও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গতবছর ২০ মে ভবনটি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ভবনটিতে নানান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এতদিন এটি ব্যবহার উপযোগী ছিলনা। থানা পুলিশ নিজ অর্থ ব্যয়ে কিছু কিছু ফিটিংসের কাজ করান। এখনও এর মূল বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। থানার পুরোনো ভবন থেকে লাইন টেনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া হয়।