ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের পর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে মৃত ভেবে কচুরিপানার নিচে চাপা দিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকসেবীর বিরুদ্ধে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মহিষাহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত শিশু জাহিদ (৯) মহিষাহাটি গ্রামের ভ্যান চালক আবুল কালামের ছেলে। বর্তমানে সে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও বখাটে হিসেবে পরিচিত এক যুবক জাহিদ কে নিয়ে যায় বাড়ি থেকে।শিশুটির বাবা আবুল কালাম জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে তিনি ভ্যান নিয়ে জীবিকার উদ্দেশ্যে বের হন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে তাকে জানান, তার ছেলে জাহিদকে হত্যা করে মাজদিয়া বাওড়ের কচুরিপানার নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশের মান্দারতলা এলাকায় খেলছিল জাহিদ। এ সময় হৃদয় হাসান তাকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং মারধর ও নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে হৃদয়সহ আরও দুই সহযোগী মাজদিয়া বাওড়ের কচুরিপানার নিচে চাপা দিয়ে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।পরে পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ভ্যান চালকের চোখে কচুরিপানার ফাঁকে শিশুটির মুখ ভেসে ওঠে। একই সময়ে স্কুল ছুটির পর সেখানে খেলছিল দুই শিশু। তাদের সহায়তায় জাহিদকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে এসআই আশিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করছেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।