বর্ষার শুরুতেই বন্যার পূর্বাভাস

আগাম প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই

এফএনএস
| আপডেট: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম | প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আগাম প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই

বর্ষা মৌসুম সবে শুরু হয়েছে, অথচ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার কৃষকরা আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। একই সময়ে সিলেটেও ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্রতিবছরই দেখা যায়, বর্ষা শুরু হতেই দেশের কিছু অঞ্চল প্লাবিত হয়। লাখো মানুষ বানভাসি হয়ে পড়ে, বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়, গবাদি পশুর মৃত্যু ঘটে, বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। অথচ বন্যা মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি সবসময়ই সীমিত। বাঁধ নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, অন্তত ৪০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাজার পর্যন্ত ভাঙনের মুখে পড়েছে। এটি সত্য যে উজানের ঢল বা বৃষ্টিকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু নদ-নদীর নাব্যতা বাড়ানো গেলে পানি দ্রুত নিচে নেমে যেতে পারে। টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে অনেক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগাম পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া বন্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। বন্যা শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়েরও নাম। কৃষকের ফসল নষ্ট হলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, গবাদি পশুর মৃত্যু হলে গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল হয়ে যায়, আর হাজারো মানুষ গৃহহীন হলে মানবিক সংকট তৈরি হয়। স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়, শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়, রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থতা মানে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া থমকে যাওয়া। তাই বন্যা প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অংশ। আমরা মনে করি, বর্ষার শুরুতেই বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া মানে ভরা বর্ষায় পরিস্থিতি আরও বেসামাল হবে। তাই সরকারকে এখনই আগাম ও টেকসই প্রস্তুতি নিতে হবে। নদী খনন, বাঁধ সংস্কার, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। বন্যা মোকাবিলায় অবহেলা মানে শুধু ফসল ও সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। বন্যা প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি এখন সময়ের দাবি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে