হালান্ডের জোড়া গোলে নকআউটের টিকেট পেলো নরওয়ে

এফএনএস স্পোর্টস | প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
হালান্ডের জোড়া গোলে নকআউটের টিকেট পেলো নরওয়ে

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ইরাকের বিপক্ষে রঙিন শুরু করেছিল নরওয়ে। যা সম্ভব হয়েছিল আরলিং হালান্ডের জোড়া গোলে। সেই হালান্ডই আবারও জোড়া গোল করে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নরওয়েকে তুললেন রাউন্ড অব ৩২-এ। গতকাল মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে নরওয়ের হয়ে গোল করেন মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেন। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন হালান্ড। তবে সেনেগালও ছেড়ে কথা বলেনি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে সেনেগাল ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে প্রত্যাবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি আর হয়নি। জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে নরওয়ে। ম্যাচ হারলেও লড়াই করেছে সেনেগাল। ম্যাচের অধিকাংশ বল নিজেদের দখলেই দখলে রেখেছিল আফ্রিকার দলটি। আক্রমণও বেশি করেছে তারা। ৫৭ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৬টি আক্রমণ এসেছে সাদিও মানের দলের। সমান ৬টি লক্ষ্যে রেখেছে দুই দলই। নরওয়ের আক্রমণ ১২টি। বল দখলে ছিল দলটির ৪৩ শতাংশ। প্রথমার্ধের শেষদিকে ৪৩ মিনিটে মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেনের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে ডান পায়ের শক্তিশালী শট নেন তিনি। বলটি গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালের ওপরের মাঝখানে আঘাত করে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধের খেলা শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল নরওয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা মাঠে ফিরলেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন হালান্ড। করেন দুটি গোল। প্রথমটি করেন ৪৮ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে মার্টিন ওডেগার্ডের চমৎকার পাস পেয়ে বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালের ওপরের ডান কোণে পাঠিয়ে দেন তিনি। ৫৩ মিনিটে ম্যাচে প্রথমবার গোল করে সেনেগাল। বক্সের বাইরে পিঠ দিয়ে গোলের দিকে দাঁড়িয়ে বল নিয়েছিলেন সাদিও মানে। দুর্দান্ত দক্ষতায় তিনি বলটি ফ্লিক করে বক্সের ভেতরে বাড়িয়ে দেন ইসমাইলা সারের জন্য। ক্রিস্টাল প্যালেসের উইঙ্গার এক টাচে বল নিয়ন্ত্রণে এনে নরওয়ের ডিফেন্ডারদের চাপের মধ্যেও এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন। এক গোল শোধ করলেও ৫৮ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় নরওয়ে। ডান দিক থেকে পেদারসেন বল পাঠান বক্সের মাঝখানে। কিন্তু হালান্ড ও নুসার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দারুণ সুযোগটি প্রায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তবে প্যাট্রিক বার্গ পরিস্থিতি সামলে নেন। তিনি বল নিয়ে বক্সের বাঁ দিকে ঢ়ুকে ছয় গজ বক্সের কিনারায় ফিরিয়ে দেন। সেখানে অপেক্ষায় থাকা আরলিং হালাণ্ড শক্তিশালী শটে বল জালের ছাদে পাঠিয়ে দেন। ৯ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের খেলার তৃতীয় মিনিটে ইসমালিয়া সার আবারও গোল করে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন। নরওয়ের রক্ষণ পুরোপুরি ছন্নছাড়া অবস্থায় ছিল। সেই সুযোগে বক্সের ভেতরে সঠিক জায়গায় অবস্থান নেন ইসমালিয়া। পাস পান নিকোলাস জ্যাকসনের কাছ থেকে। প্রথমে বল নিয়ন্ত্রণে আনেন, এরপর এগিয়ে আসা গোলরক্ষক অরইয়ান নিয়ল্যান্ডকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। ম্যাচ জমে ওঠে ওই গোলে। শেষদিকে দুই দলই একাধিক সুযোগ পায়। কিন্তু কেউই কাজে লাগাতে পারেনি। চেষ্টা করেও সেনেগাল কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি আর নরওয়েও পারেনি ব্যবধান বাড়াতে। ৩-২ গোলের জয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই নকআউটে জায়গা করে নিলো নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে নরওয়ের পরবর্তী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপখে আগামী শনিবার। একই দিন ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেনেগাল।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে