পঙ্গুত্বের অন্ধকার পেরিয়ে আশার আলো

নাজমুলকে উন্নত প্রযুক্তির কৃত্রিম পা উপহার দিলেন ডা. লিটন এমপি

এফএনএস (এইচ এম জোবায়ের হোসাইন; ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
নাজমুলকে উন্নত প্রযুক্তির কৃত্রিম পা উপহার দিলেন ডা. লিটন এমপি

জীবনের পথচলা কখনো কখনো হঠাৎ থমকে যায় নির্মম বাস্তবতার কাছে। একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল তরুণ নাজমুল হোসেনের স্বাভাবিক জীবন। দুই পায়ে ভর করে চলার স্বপ্ন হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক কষ্ট আর অসহায়ত্বের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চিকিৎসা ও কৃত্রিম পা সংযোজনের ব্যয় বহন করাও ছিল তার পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া পাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে নাজমুল হোসেনের এই করুণ পরিস্থিতির খবর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পৌঁছে যায় ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন এমপির কাছে।

বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত নাজমুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের অসহায় অবস্থার কথা শুনে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় নাজমুলের জন্য উন্নত প্রযুক্তির দুটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করা হয়।

পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাজমুল পঙ্গুত্বের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বহু চেষ্টা করেও তার জন্য কৃত্রিম পা সংযোজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিটি দিন তার কাছে ছিল একেকটি সংগ্রামের নাম।

অবশেষে ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন এমপির সহায়তায় উন্নত প্রযুক্তির কৃত্রিম পা পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন নাজমুল। এখন তিনি আবারও স্বাভাবিকভাবে হাঁটার চেষ্টা করছেন। ফিরে পেতে চাইছেন নিজের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ও জীবনের গতি।

আবেগাপ্লুত নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার মতো একজন অসহায় মানুষের পাশে এমপি সাহেব যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলব না। তিনি যদি এই কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা না করতেন, তাহলে হয়তো সারাজীবন কষ্ট নিয়েই বেঁচে থাকতে হতো। আজ আমি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা দেখতে পাচ্ছি।’

ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন এমপি বলেন, ‘নাজমুলের পঙ্গুত্বের বিষয়টি জানার পর আমি মনে করেছি, তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একজন মানুষ যেন আবার নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ত্রিশালের মানুষের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে আমি সবসময় তাদের পাশে থাকতে চাই।’

স্থানীয়দের মতে, এই সহায়তা শুধু দুটি কৃত্রিম পা উপহার দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষের জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং আশার আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত। সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে।

নাজমুলের মুখের হাসি আজ যেন প্রমাণ করে মানুষ মানুষের জন্য। আর সময়মতো বাড়িয়ে দেওয়া একটি সহানুভূতির হাত বদলে দিতে পারে একটি পুরো জীবনের গল্প।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে