রংপুরে দশতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহানের মৃত্যুর মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ওই শিক্ষার্থী ছাদ থেকে পড়ে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের সাথে কথা বলেছিল। এছাড়া গত ৯ মাস ধরে নুজশাতের সাথে সাকিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। এ ঘটনায় প্রাইভেট শিক্ষক সাকিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাকিন নগরীর ধাপ চিকলীভাটা এলাকার ফোরকান আলীর ছেলে। সে রংপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, কোতয়ালী থানায় নুজশাতের বাবা বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবং মেয়ের কল লিস্ট বিশ্লেষণ করে জানতে পারি যে সাকিনের সাথে নুজশাতের সম্পর্ক ছিল। এছাড়া তাদের বন্ধুরাও একই কথা বলেছে। আমাদের কাছে আরও তথ্য রয়েছে, যেগুলো ভেরিফাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নুজশাতের সাথে সাকিনের প্রেমের সম্পর্ক প্রায় ৯ মাসের। তাদের মাঝে কথা হতো, দেখা হতো এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে এবং সাকিন সেটি স্বীকারও করেছে। তাদের ফোনের ডিটেল চেক করে দেখা গেছে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাকিনের সাথে কথা বলেছে নুজশাত। আমরা সাকিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৪টায় প্রাইভেট পড়তে বাসা থেকে বের হয় ক্যান্টপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহান। নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ দশতলা বিশিষ্ট নর্থভিউ হোটেলের লিফটে করে সোজা ছাদে চলে যান তিনি। বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে নুজশাত হোটেলের ছাদে উঠে। সেখানে প্রায় এক ঘন্টা অবস্থানের পর রাস্তার বিপরীত দিকে মুখ করে একাই রেলিংয়ের ছাদে বসে থাকে নুজশাত। এরপর বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে উল্টোভাবে রেলিংয়ে বসে থাকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নুজশাতের মৃত্যু হয়। রাতে ময়না তদন্ত শেষে নুজশাতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে (২৫) আসামী করে নুজশাতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, নুজশাতের মোবাইল ফোনের সকল ম্যাসেজ ডিলেট অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেই সাথে নুজশাতের প্রাইভেট শিক্ষক সাকিনের সাথে মেয়ের মোবাইল ফোনে একাধিক ছবি ও বিভিন্ন কথোপকথনের মেসেজ ছিল। প্রাইভেট শিক্ষকের মানসিক নির্যাতনের কারণে মেয়ের মৃত্যু হতে পারে অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে নগরী থেকে সাকিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।