চীনের গ্লোবাল টাইমসে কলাম

তারেক রহমানের চীন সফরে নতুন উচ্চতায় যেতে পারে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক

এফএনএস অনলাইন ডেস্ক:
| আপডেট: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম | প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
তারেক রহমানের চীন সফরে নতুন উচ্চতায় যেতে পারে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য নিয়ে তিন দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে চীনে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর, যার দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে বেইজিংকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দেশের কূটনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্য মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সফরে দুই দেশের মধ্যে শিল্পখাত ও মেগা অবকাঠামোসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৫টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।

কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার নীতি বজায় রেখেছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের সম্পর্ক 'সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্বে' রূপ নেয়।

বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব: টানা ১৫ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার। তাছাড়া, বাংলাদেশি পণ্যে বেইজিংয়ের দেওয়া শূন্য শুল্ক সুবিধা এই বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করেছে।

মেগা প্রকল্প ও কানেক্টিভিটি: পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ অবকাঠামো এবং 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (ইজও) আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

সমঝোতা স্মারক: প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে শিল্প, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত ১৫টিরও বেশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (গড়ট) সই হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্লোবাল টাইমসের নিবন্ধে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে তিনটি মূল চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে:

ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা: পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক টানাটানি এবং ‘ঋণের ফাঁদ’ তত্ত্বের মতো প্রোপাগান্ডা ব্যবহার করে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা।

নীতির ধারাবাহিকতা: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি: পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং মার্কিন বা পশ্চিমা দেশগুলোর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে দেশের সুশীল ও অভিজাত মহলের একাংশের উদ্বেগ।

এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের আরও দূরদর্শিতা এবং সাহসের সাথে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধটিতে সহযোগিতার ৩টি ভবিষ্যৎ ক্ষেত্রও উন্মোচন করা হয়েছে:

শিল্প স্থানান্তর ও উৎপাদন: চীনের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশে স্থানান্তরের মাধ্যমে কম শ্রমব্যয়ের সুবিধা নিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা।

আঞ্চলিক ও গ্লোবাল সাউথ কো-অপারেশন: চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এশিয়ার শিল্প শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দৃঢ় করা।

সুশাসন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়: থিংক ট্যাংক ও রাজনৈতিক পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজস্ব বাস্তবতার নিরিখে আধুনিকায়নের পথ খুঁজে নেওয়া।

মূল বক্তব্য: উন্নয়নের কোনো একক বৈশ্বিক মডেল নেই। পূর্ব ও পশ্চিম-উভয় অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নিজস্ব আধুনিকায়নের পথ অনুসরণ করার মতো সক্ষমতা ও সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে। আর এই যাত্রায় বেইজিং একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে