৬০ দিনের মধ্যে নতুন তালিকা দিতে হবে

৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার ফল পুনঃপ্রকাশের নির্দেশ

৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়ে পুনরায় ফল প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত ৬০ দিনের মধ্যে নতুন করে মেধা তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।

রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন করে মূল্যায়নের মুখে পড়ল। রিটকারীরা দাবি করেন, প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ না করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল, যেখানে মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই ৬৪২ জনকে নিয়োগ সুপারিশ করা হয়। আদালতও পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে।

এর আগে ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকশ চাকরিপ্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেন। রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব আদালতে শুনানি করেন। তিনি বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আইন অনুযায়ী হয়নি। মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই সুপারিশ করা হয়েছে, যা বিধিমালার পরিপন্থি।”

রিট আবেদন অনুযায়ী, ৪৩তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার পর প্রায় ৯ হাজার ৮৪১ জন উত্তীর্ণ হন। পরে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে সুপারিশ করা হলেও নন-ক্যাডার অংশে স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিট দাখিল করা হয়, যেখানে পরবর্তীতে আরও অনেক প্রার্থী যুক্ত হন।

আদালত আগেও ৮ হাজার ৫০১টি নন-ক্যাডার পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিচারাধীন বিষয় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সর্বশেষ রায়ে সেই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, এই রায় নন-ক্যাডার নিয়োগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, মেধা তালিকা প্রকাশ ছাড়াই নিয়োগ সুপারিশ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

রায়ের পর এখন পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নতুন করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সাজাতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পুনরায় ফল প্রকাশ করতে হবে।

এদিকে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও অনেকেই মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ভূমিকা রাখবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে