কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না করে চুপিসারে ঘোষনা করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ৪৭ কোটি ৩ লাখ ৫১হাজার টাকা আয় এবং ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিলো। কিন্তু বাজেটে উল্লেখিত খাত গুলোর অধিকাংশেরই কোন কাজ বাস্তবায়ন হয়নি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না করে বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ না জানিয়ে ঘোষণা করা হয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৯ কোটি ৬০ লাখ ৫৬৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৭৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫ টাকা। এতে উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৬৮ টাকা। বাজেট ঘোষণা করেন নাঙ্গলকোট পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান। এসময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। পূর্বের বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কায় এমন গুপ্ত বাজেট বলে ধরণা গণমাধ্যম কর্মী ও স্থানীয়দের।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে করোনা ভাইরাস জনিত দূর্যোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাজেট রাখা হয়েছিলো ৫ লাখ। এছাড়া বাজেটে রাস্তা নির্মাণ খাতে ১৬ কোটি, পৌর সুপার মার্কেট নির্মান খাতে ২কোটি, পৌর এলাকায় বিদ্যমান বিভিন্ন ড্রেন নির্মান, পরিষ্কার, মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষণ খাতে ৬কোটি ৬৫ লাখ, বাস টার্মিনালের নির্মাণ খাতে ২০লাখ, পৌর এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত কল্পে এই খাতে ব্যয় বরাদ্ধ রাখা হয় ১০লাখ, ব্রীজ ও কালভাট নির্মাণ খাতে বরাদ্দ ১কোটি ২০লাখ, চিকিৎসা সেবাসহ গরীব দুঃস্থদের আর্থিক সাহায্য প্রদান খাতে ২লাখ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবত বরাদ্দ ৩কোটি, রাস্তা আলোকিত করণসহ বিদ্যুতায়নে বরাদ্দ ১কোটি ১০লাখ, পৌর নাগরিকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য পার্ক ও সৌন্দর্য্য বর্ধন নির্মান খাতে বরাদ্দ ২০লাখ, ইপিআই কার্যক্রমে ২লাখ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনা নির্মান ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮২ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন যাবৎ কাগজে-কলমে বাজেট হলেও উল্লেখিত খাত গুলোর কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পৌর নাগরিক সমাজ।
নাঙ্গলকোট পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৫০/৬০ ভাগ কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। কোন খাতে কত কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে এবং সর্বমোট কত কোটি টাকা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তাছাড়া প্রতিবেদককে তার সাথে অফিসে গিয়ে দেখা করতে জোর অনুরোধ জানান। নাঙ্গলকোট পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।