বরিশাল মহানগরীরসহ জেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে রবিবার সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পিং শুরু হয়েছে। তবে ওইদিন দুপুরের (একটার) পর কয়েকটি হাসপাতালে শিশুদের নিয়ে এসে ফিরে গেছেন তাদের অভিভাবকরা। তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বরাদ্দ অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল শেষ হয়ে গেছে।
রবিবার সকালে বরিশাল নগরীতে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অপরদিকে বরিশাল জেলার উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর ই ইলাহী। এ বছর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে ২২০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে একযোগে ৫৮ হাজার ৯৫০ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানাে হচ্ছে। আর বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ৩ লাখ ৬০হাজার ৮৭২ জন শিশুর টার্গেট নেয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে বিভাগের ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৩ জন শিশুকে ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস প্লাস ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শিশির কুমার গাইন বলেন, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সের ১ হাজার ৮০০ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৪ হাজার ৮৮৯ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে এসে শিশুদের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য তিনি আহবান করেছেন। দুপুর একটায় গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, সকালে হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে উদ্বোধণ করা ক্যাম্পেইনের সেবীকারা যে যার মতো চলে গেছেন। সেখানে শিশুদের নিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে আসা অভিভাবকরা হাসপাতালের এক স্টাফের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বরাদ্দ অনুযায়ী ক্যাপসুল শিশুদের খাওয়ানো হয়ে গেছে। তাই আর ক্যাপসুল না থাকায় ক্যাম্পেইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খাঞ্জাপুর এলাকা থেকে শিশু কন্যাকে নিয়ে আসা অভিভাবক শেফালী রানী বলেন, আমি নিজেকে ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে এসেছি। এসময় বাচ্চাকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য হাসপাতালের নির্ধারিত ক্যাম্পে গিয়ে দেখি চেয়ার-টেবিল ছাড়া সেখানে আর কেউ নেই। এ ব্যাপারে ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় কোনধরনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।