জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে স্বামীকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে রবিবার বিকেলে ক্ষেতলাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিনাই গ্রামের বাসিন্দা আনসার আলীর স্ত্রী এক সন্তানের জননী শম্পা খাতুন (২০) সন্তানকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত গভীর হলে একই গ্রামের গোফফার মণ্ডলের ছেলে রুবেল হোসেন (২৭) কৌশলে বাড়ির প্রাচীর টপকে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ঘুমন্ত গৃহবধূকে বিছানা থেকে তুলে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ, এ সময় অভিযুক্ত রুবেল তাকে জানান যে, সন্ধ্যায় দোকানে বসে তার স্বামীকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই কয়েক ঘণ্টার আগে তার স্বামী জেগে উঠবে না। এরপর রুবেল তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে বাধা দিলে গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ঘরের ভেতর মায়ের সঙ্গে কথা শিশুটি জেগে ওঠে কান্নাকাটিতে স্বামী আনসার আলীর ঘুম ভেঙে যায়। তিনি চিৎকার করে স্ত্রীর নিকট জানতে চায় বাড়িতে কে এসেছে? তখন অভিযুক্ত রুবেল হোসেন দ্রুত প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরদিন শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত রুবেল সেখানে উপস্থিত হননি। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি টানা দুই দিন সালিশে উপস্থিত হননি। ভুক্তভোগী শম্পা খাতুন বলেন, আমাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ভুক্তভোগীর স্বামী আনসার আলী বলেন, আমাকে কোমল পানীয় (স্প্রিড)-এর সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গভীর রাতে ঘরে ঢ়ুকে আমার স্ত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, আমি এসপি অফিসে একটি সভায় ছিলাম। জেনেছি ভুক্তভোগীর স্বামী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।