অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণে মৃত্যু

সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য

এফএনএস | প্রকাশ: ৩০ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য

বাংলাদেশে প্রতিবছর অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে প্রায় ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১১৫ জন প্রাণ হারান। একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যার অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। এই ভয়াবহ বাস্তবতা আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, খাদ্য নিরাপত্তা কেবল স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। রাস্তার খাবার বিক্রেতা, ফুড কোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোকে প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং জনসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারিতে যেমন স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা তৈরি হয়েছিল, তেমনি নিরাপদ খাদ্য নিয়েও জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রথমত, খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। দ্বিতীয়ত, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ফাস্টফুডের প্রতি অতিনির্ভরতা কমাতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, শিশুদের জন্য স্কুলের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশ দূষণ। মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত হলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। রাস্তার খাবার সংস্কৃতিকে উচ্ছেদ না করে প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদের খুতবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করবে। খাদ্য নিরাপত্তা কেবল স্বাস্থ্য নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্ন। তাই এখনই জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে