ত্রাণের চালের ভাগ না পাওয়ায় বরিশালের মুলাদী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর করাসহ গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদারকে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। বুধবার (পহেলা জুলাই) দুপুরে মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছিলো মঙ্গলবার (৩০ জুন)। এসময় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন সরদার তার সহযোগিদের নিয়ে তার (জাকির হোসেন) কার্যালয়ে ঢ়ুকে ত্রাণের চালের তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে কেন তাকে জানানো হয়নি বলে কৈফিয়ত চায়। একপর্যায়ে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি (জাকির হোসেন) ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুলাদী সদর ইউনিয়নের নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য তিন টন চাল বরাদ্দ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার তার অফিস কক্ষে বসে ওই চাল প্রদানের জন্য সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। এ সময় বেল্লাল হোসেন সরদার ও সুজন চৌকিদারসহ তাদের ৫/৬ জন সহযোগিরা হঠাৎ তার রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে কার অনুমতিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে-তা জানতে চেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সরকারি কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে ওই কর্মকর্তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তারা ওই কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার হুমকি প্রদর্শন করেছেন। লাঞ্ছনার শিকার কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার জানিয়েছেন, বেল্লাল সরদার এর আগেও তার অফিস কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করেছিলেন। এছাড়া বিগত ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল আজহার সময় ভিজিএফ চাল বিতরণে বাঁধা দিয়ে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ চাল তাদের দেওয়ার দাবি করেছিলেন। এমনকি দরিদ্র মহিলাদের দুই বছর মেয়াদী ভিডব্লিউবি চালের কার্ড বিতরণের সময়ও তারা জোরপূর্বক কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্যরা জানিয়েছেন, নদীভাঙন কবলিত ১৫০ জন মানুষের জন্য ২০ কেজি করে তিন টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। ওই চালের ২০ শতাংশ হিসেবে ৩০ জনের তালিকা দিতে চেয়েছিলেন বেল্লাল সরদার। কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ২০ জনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে তিনি রাজি না হলে চেয়ারম্যান তাকে ২৫ জনের নাম দিতে বলেন। চেয়ারম্যন পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর পরই ওই ছাত্রদল নেতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর ও গুলি করার হুমকি দেন। মুলাদী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমি অসুস্থ থাকায় ঘটনার দিন পরিষদ থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়েছিলাম। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলা ছাত্রদল সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার তিনি পরিষদেও যাননি। তবে শুনেছেন ওইদিন কয়েকজনের সঙ্গে জাকির হোসেনের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ছাত্রদল নেতার দাবি, তিনি মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় তাকে রুখতে এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিডি করেছেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম সরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় জিডি হয়েছে এবং জিডি কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।