তানোরে মেডিকেলে মৃত গৃহবধুর গহনা খুলে নিলেন মালি

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
তানোরে মেডিকেলে মৃত গৃহবধুর গহনা খুলে নিলেন মালি

রাজশাহীর তানোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কক্ষ মৃত এক গৃহবধুর কান থেকে (সোনার গহনা) রিং খুলে নিয়েছেন ওই হাসপাতালের মালি। সিসিটিভি ফুটেজে এর (প্রমান) সত্যতা মিলেছে। ঘটনার পর থেকে মালি রায়হান আলী লাপাত্তা রয়েছেন। এনিয়ে এলাকা বাসীসহ আত্নীয়দের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় গৃহবধুর ভাই বাদি হয়ে মালির বিরুদ্ধে টিএইচও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।  অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তানোর উপজেলার তালন্দ ইউপির সুখদেবপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী লিপি বেগম (৪২) পেশার জনিত কারনে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এসময় আত্নীয়রা অটো ভ্যান যোগে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসারত অবস্থায় ওই গৃহবধুর মৃত্যু হয়। জরুরী বিভাগের বেডে থাকা ওই গৃহবধূর (লাশের) কান থেকে সোনার গহনা রিং খুলে নেয় মালি রায়হান আলী। পরে লাশ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পর ওই গৃহবধূর শ্বাশুড়ি কানের গহনা রিং দেখতে না পেয়ে ওই গৃহবধুর বাবার বাড়ি মেডিকেলের পার্শ্বের আমশো গ্রামের আত্নীয়দেরকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে অবহিত করেন।  এসময় রাতেই গৃহবধূর আত্নীয়রা তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত করেন এবং মালি রায়হান আলীকে সন্দেহ করেন। ঘটনার পর থেকে মেডিকেলের মালি রায়হান আলী হাসপাতালে আর আসেননি। বুধবার সকালে ওই গৃহবধুর লাশ দাফনের পর গৃহবধুর আত্নীয়রা তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে সিসিটিভি ফুটেজে স্পস্ট ভাবে মালি রায়হান আলী গৃহবধূর কান থেকে সোনার গহনা রিং খুলে নেয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এঘটনায গৃবধুরর ভাই মিঠুন বাদি হয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালি রায়হান আলীর বিরুদ্ধে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।  জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার জোবাইদা রহমান বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই আশংকা জনক ছিলো। আমিসহ মেডিকেল অফিসার ওই রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম এঅবস্থায় রোগী মারা যায়। রোগীর ছাড়পত্র দেয়া নিযে আমরা ব্যস্থ ছিলাম। এর ফাঁকেই রোগীর কান থেকে সোনার গহনা রিং খুলে নেয় মালি রায়হান আলী। যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পস্ট প্রমান মিলেছে। মালি রায়হান স্থানীয় হওয়ায় রোগী তার আত্নীয় এমন কথা বলে জোর করে জরুরী বিভাগের কক্ষে প্রবেশ করে। বার বার বলাসত্তেও তাকে বের করা যায়নি। রাত ১টার দিকে আমার কাছে খবর আসে মৃত রোগীর কান থেকে সোনার গহনা রিং হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মৃত ওই রোগীর লাশ নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই মালি রায়হানও মেডিকেলে আর আসেনি। 

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালি রায়হান আলীর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে অস্বীকার করলেও সিসিটিবি ফুটেজে প্রমান মিলেছে এমন কথার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মৃতর পর আমি সোনার গহনা কানের রিং কান থেকে খুলে একজন মহিলাকে দিয়েছি। কাকে দিলেন জানতে চাইলে তিনি চিনেন না বলেও জানান। সিসিটিভি ফুটেজে তো তাহলে ধরা পড়ার কথা কিন্তু দেখা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নের সদউত্তর দিতে পারেননি তিনি।  তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার বারনাবাস হাসদাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং মালি রাযহানকে সামযিক ভাবে তার কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে