রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে সংক্রমন

হামের পর কক্সবাজারবাসীকে ভাবাচ্ছে ডেঙ্গু

এফএনএস (বলরাম দাশ অনুপম; কক্সবাজার) : | প্রকাশ: ৪ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
হামের পর কক্সবাজারবাসীকে ভাবাচ্ছে ডেঙ্গু

হামের পর কক্সবাজার জেলাবাসীকে এবার ভাবাচ্ছে ডেঙ্গু। বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বেশি দেখা যাচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় মোট ১৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

জানা যায়, কক্সবাজারে এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি সংক্রামক রোগ হাম। এরই মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেক বেশি। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় মোট ১৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ১৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১১ জন, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন এবং মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন ভর্তি রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় ১০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। একই সময়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও পাঁচজন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে চারজনই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং একজন মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পঙ্কজ পাল জানান, চলতি বছর জেলায় ১৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। একে স্বস্তিদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪৭১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পে ঘনবসতি, বর্ষার সময় জমে থাকা পানি এবং পরিবেশগত নানা কারণে এডিস মশার বিস্তারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই সেখানে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি, লিফলেট বিতরণ, প্রচারণা এবং জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে