লক্ষ্ণীপুরে পারিবারিক বিরোধে মাতব্বরকে গুলি, অভিযুক্ত পলাতক

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) :
| আপডেট: ৪ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম | প্রকাশ: ৪ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
লক্ষ্ণীপুরে পারিবারিক বিরোধে মাতব্বরকে গুলি, অভিযুক্ত পলাতক

লক্ষ্ণীপুরের সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে এলাকার এক প্রবীণ মাতব্বরকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী (৭০)। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। আজ শনিবার (৪ জুলাই ) বিকাল ৫ টার দিকে  এ ঘটনা ঘটে। আহত নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী রশিদপুর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমান ও মৃত কদর বানুর ছেলে। 

পুলিশও  স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত আশিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, অভিযোগ তারা মৌখিকভাবে পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশি টহল অব্যাহত রেখেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী একটি স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় এলাকার মাতব্বর হিসেবে নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী ভূমিকা রাখেন। বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন অভিযুক্ত আশিক। একপর্যায়ে তিনি পেছন থেকে একটি পিস্তল বের করে নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলি তার বাম হাতে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার করে লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামীমুর রহমান জানান, আহত ব্যক্তির বাম হাতে গুলি লেগেছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেন ফারুকের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করায় ফারুকের ছেলে সৈকত ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সৈকতের বাবা ইসমাইল হোসেন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা আহত নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। আহত নজরুল ইসলামের অভিযোগ, অভিযুক্ত সৈকত একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি এবং তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

 এদিকে ছেলে সৈকতের বিরুদ্ধে ওঠা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তার বাবা ইসমাইল হোসেন বলেন, "সৈকত আগে সন্ত্রাসী ছিল না। অনেক টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছি, বিয়ে করিয়েছি, ব্যবসাও ধরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কীভাবে তার হাতে অস্ত্র এলো, কেন সে নিজের দাদাকে গুলি করল-তা আমি বুঝতে পারছি না। এখন ছেলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে আমিও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।" চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর এলাকায় এক বৃদ্ধ সন্ত্রাসীদের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে