এক সপ্তায় পাঁচ খুন, টাঙ্গাইলে অপরাধের ভয়াবহতা বেড়েছে

এফএনএস (টাঙ্গাইল) : | প্রকাশ: ৫ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
এক সপ্তায় পাঁচ খুন, টাঙ্গাইলে অপরাধের ভয়াবহতা বেড়েছে

টাঙ্গাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। গত সাত দিনে জেলার তিনটি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পাঁচটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সর্বশেষ শনিবার(৪ জুলাই) রাতে সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি বাজারে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৫ জুলাই) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাসুদ মিয়া (৪৫) নামে ওই মুদি দোকানির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মাসুদ মিয়া কুইজবাড়ি গ্রামের লাল মাহমুদের ছেলে। 

স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে বিষয়টি ইউপি সদস্য ফরহাদ আলীকে জানানো হলে তিনি জাতীয় জরুরি পরিষেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহত ব্যবসায়ীর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

গত ১ জুলাই (বুধবার) নিখোঁজের একদিন পর সখীপুর উপজেলা হাসপাতাল গেটের দক্ষিণে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে পারভীন আক্তার নামে এক বিধবা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত হুমায়ুন খানের স্ত্রী। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতের ছেলে ফাহাদ ঢাকায় চাকরি করার কারণে পারভীন আক্তার সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় একা বসবাস করতেন। 

এর আগে গত ২৯ জুন (সোমবার) সকালে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমা আলম নাজু নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন ঋণের চাপে পড়ে সোনা লুট করার উদ্দেশ্যে ওই গৃহবধূকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মোশারফ হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। 

এদিকে, নাগরপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। গত ১ জুলাই (বুধবার) দুপুরে সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটখেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শওকত সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়ায় গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সংঘর্ষে ছানোয়ার মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আবু হানিফের ছেলে। গত ২৮ জুন (রোববার) নিজের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়ার সময় চাচাতো ভাইদের সাথে তার সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত ছানোয়ারকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ২৯ জুন(সোমবার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সাত দিনের ব্যবধানে জেলায় পরপর পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক জানান, বর্তমান সমাজে সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবক্ষয় রোধে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন। পরিবার তথা সমাজের তৃণমূল থেকে এসব শিক্ষাগ্রহণ করতে হয়। বর্তমান প্রজন্ম বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় সামাজিক মূল্যবোধের এ বিপর্যয় ঘটেছে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম জানান, বর্তমান সমাজে পারিবারিক শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। আগে সন্ধা হলেই প্রতিটি অভিভাবক তাদের সন্তানদের খোঁজ নিতেন। কিন্তু এ প্রজন্মের সন্তানরা মোবাইলের বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়াচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রত্যেক অভিভাবককে সচেতনভাবে পারিবারিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপও নিতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে