মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর নবজাতকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রশাসক

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর নবজাতকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রশাসক

চাঁদপুরে পিতৃপরিচয়হীন এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর নবজাতক কন্যাশিশু জন্ম হয়েছে।ঘটনাটি জানতে পেরে মা ও শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রোববার (৫ জুলাই) সকালে নবজাতককে দেখতে যান জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিশুটির জন্য উপহার দেন এবং মা ও নবজাতকের চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

জেলা প্রশাসক জানান, মা ও শিশু দুজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে। তবে আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যে পরিবার শিশুটির নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে, তাদের কাছেই শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান, সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. কাজলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী একই কাপড়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তার অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেষ্টা করলেও তার আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

শাহনাজ বেগম নামে স্থানীয় এক নারী জানান, তিনি প্রথমে তরুণীটিকে শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাকে উদ্ধার করে নিজের মেসে নিয়ে যান। সেখানে তরুণীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ও প্রসব বেদনা লক্ষ্য করে তিনি শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১১টার  দিকে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত তাকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করেন। সেখানেই  শনিবার(৪ জুলাই)  তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার জানান, প্রসূতি ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ওই তরুণী নিজের নাম-পরিচয় বা সন্তানের বাবার সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, রোগী ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে আমাদের পর্যবেক্ষণে আছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে হাসপাতাল থেকে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে