রাণীনগরে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে শিশু নিহত, ৯ জনের নামে মামলা

এফএনএস (মোঃ ওহেদুল ইসলাম মিলন; রাণীনগর, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
রাণীনগরে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে শিশু নিহত, ৯ জনের নামে মামলা

নওগাঁর রাণীনগরে পুকুর খননের সময় ভেকু (এক্সক্যাভেটর) মেশিনের বাকেট লেগে বৈদ্যুতিক খুঁটির মেইন লাইন থেকে ছেঁড়া তারে পৃষ্ট হয়ে রবিউল (৫) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের ধনপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার সকালে ময়না তদন্তে পাঠায়। এঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে রোববার রাতেই ৯জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শিশু রবিউল ইসলাম ধনপাড়া পুর্বপাড়া গ্রামের ময়নুল হকের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভেকু মেশিন জব্দ করেছে। দায়েরকৃত মামলা সুত্রে জানাগেছে,ধনপাড়া গ্রামের জাকির হোসেন ফসিল (৫৫),একই গ্রামের মাজেদুল দেওয়ান(৬০)সহ কয়েকজন ওই এলাকায় পুকুর খননের জন্য এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছিল। এরই মধ্যে বোরবার বেলা ১১টার দিকে পুকুর খননের সময় ভেকু মেশিনের বাকেট লেগে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন এক্সক্যাভেটর মেশিন চালককে বিদ্যুৎ অফিসে খবর দিয়ে ছেঁড়া তার মেরামত করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয়দের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে ওই অবস্থায় পুকুর খননের কাজ করছিল। পরে বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ শিশু বরিউল খেলাধুলা করার সময় পরে থাকা বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে স্পৃষ্ট হয়। এসময় স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুকে মৃত ঘোষনা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে থানাপুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শণ করে এক্সক্যাভেটর মেশিন জব্দসহ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৮জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো একজনসহ মোট ৯জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। শিশুর বাবা ময়নুল হক জানান,তিনি রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শিশু রবিউল ছিল পরিবারে একমাত্র সন্তান।  তিনি বলেন ছেঁড়া তার মেরামত করার জন্য স্থানীয় লোকজন বার বার বললেও কারো কথায় কর্ণপাত করেনি। তিনি এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।  রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন,এঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। রোববার রাতেই এক্সক্যাভেটর মেশিন জব্দসহ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনার পর থেকে আসামীরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।