শেরপুরে দীর্ঘ ১৬ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি রাবার ড্যাম প্রকল্প

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) : | প্রকাশ: ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
শেরপুরে দীর্ঘ ১৬ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি রাবার ড্যাম প্রকল্প

শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক  দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সেচ সংকটে জর্জরিত। সোমেশ্বরী নদীর তাওয়াকোচা এলাকায় একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি স্বাধীনতার পর থেকেই উঠলেও, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে উচ্চমূল্যে গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করে বোরো আবাদ করতে গিয়ে কৃষকরা উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ২০১০ সালে প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রকল্পটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমে এক একর জমিতে সেচ দিতে গভীর নলকূপের মালিককে প্রায় ৮-৯ হাজার টাকা দিতে হয়। এই উচ্চ সেচ ব্যয়ের কারণে চাষাবাদ করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, তাওয়াকোচায় রাবার ড্যাম নির্মিত হলে প্রতি একর জমিতে সেচ ব্যয় প্রায় তিন হাজার টাকায় নেমে আসবে। যা কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে। এই ড্যাম নির্মিত হলে ঝিনাইগাতী এবং শ্রীবরদী উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষকের সেচ সংকট দূর হবে এবং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সেচ খরচ বেঁচে যাবে।

ভারতের মেঘালয় থেকে উৎপন্ন সোমেশ্বরী নদী শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন সোমেশ্বরী নদীর বালিজুড়ি এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হতো। তবে এতে ভাটির কৃষকরা সেচ সংকটে পড়তেন এবং এ নিয়ে প্রায়শই সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনা ঘটত। ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সোমেশ্বরী নদীর আযনাপুর এলাকায় একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করলেও, উপযুক্ত স্থান নির্বাচন না করায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সেটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর আর নতুন করে রাবার ড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানায়, ২০১০ সালে জাইকা প্রকল্পের আওতায় সোমেশ্বরী নদীর তাওয়াকোচা এলাকায় একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছরেও সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফরহাদ হোসেন বলেন, নির্ধারিত স্থানে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে স্বল্প খরচে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়বে এবং প্রায় ৫ হাজার কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিন বলেন, দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে কৃষকরা সব দিক থেকেই উপকৃত এবং লাভবান হবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে