সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রেখে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আর্জি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৭ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রেখে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আর্জি

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি অসাংবিধানিক ঘোষণা করার দাবি জানানো হলেও, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এবং ১০২ অনুচ্ছেদের সংশোধনী বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছে রিটকারীপক্ষের একটি অংশ। তাদের মতে, এই দুটি বিধান বাতিল হলে বিচার বিভাগে আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং বিচারকদের জবাবদিহির বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে রিটকারীপক্ষের আইনজীবী শরীফ ভূইয়া এ আর্জি জানান। তার সঙ্গে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী কারিশমা জাহান, রেদোয়ানুল করিম ও আসিফ ইকবাল। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য বুধবার (৮ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

শুনানিতে আইনজীবী শরীফ ভূইয়া বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এটি সংবিধানের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের জনবিরোধী সংশোধনী আর না হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করা না যায়, সেজন্য এটি বাতিল হওয়া প্রয়োজন।”

তবে পুরো সংশোধনী বাতিলের পরও দুটি বিধান বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেলে বিচারকদের জবাবদিহির এই ব্যবস্থাটি আর থাকবে না। সংসদ পুনরায় এটি প্রবর্তন না করা পর্যন্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনগণের বিচারিক সুরক্ষায় শূন্যতা সৃষ্টি হবে।”

তিনি আদালতকে জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১০২ অনুচ্ছেদে মানবাধিকার রক্ষায় হাইকোর্টে রিট করার বিষয়ে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেটিও বহাল রাখা উচিত। এতে বিচারিক ব্যবস্থায় কোনো আইনি শূন্যতা তৈরি হবে না।

শুনানিতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, যা অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা নিয়ে পৃথক একটি মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে বর্তমান মামলায় কোনো রায় না দেওয়ারও অনুরোধ জানান রিটকারীপক্ষের আইনজীবী।

পটভূমিতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ কয়েকজনের করা রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে হাই কোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল ঘোষণা করেন। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত ২০ ও ২১ ধারা, ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়। পাশাপাশি গণভোট সংক্রান্ত সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিশেষ করে গণতন্ত্র ও জনগণের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তবে পুরো সংশোধনী বাতিল না করে আদালত বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যৎ সংসদকে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ রাখেন।

হাই কোর্টের ওই রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হয়ে রিটকারীরা পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে আপিল করেন। একই বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও পৃথক আপিল করেন। বর্তমানে তিনটি আপিলের শুনানি একসঙ্গে চলছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে