ময়মনসিংহে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি ও হয়রানি, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এফএনএস (রকিবুল হাসান চৌধুরী রুবেল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ৭ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি ও হয়রানি, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মযমনসিংহের ত্রিশালে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি, নানা ভাবে হয়রানি ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে মোজাদ্দেদীয়া  ফিলিং স্টেশনের মালিক ব্যবসায়ী সোহেল রানা। দুপুরে ত্রিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে  সোহেল রানা অভিযোগ করেন, বিগত ২০১১ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাঘামারা বাজার সংলগ্ন স্থানে আমার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে একটি পেট্রোল পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করি। সে সময় আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যবসায়ী প্রস্তাবিত পেট্রোল পাম্পে  অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে আলোচনা সাপেক্ষে পেট্রোল পাম্প স্থাপন ও নির্মানের মোট ব্যয়ের ৪০ ভাগ তিনি বহন করবেন। পরবর্তীতে পাম্প নির্মানের সময় আব্দুল মান্নান টাকা পয়সা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পাম্পের নির্মান কাজ সম্পন্ন করি। কিন্ত ২০২২ সাল পর্যন্ত কোন অভিযোগ বা মালিকানা দাবী না করলেও ২০২৩ সাল থেকে উক্ত পাম্পের অংশীদারিত্ব দাবি করে। আমি অংশীদারিত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে পুলিশ ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্বে অভিযোগ করেন। এবং আমাকে বিভিন্ন ভাবে হত্যার হুমকিসহ অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমি মিথ্যা অপপ্রচারের সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।

‎সংবাদ সম্মেলনে ব্যব্সায়ী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিগত ২০১১ সালে রাগামারা বাজারের দক্ষিণে ঢাকাময়মনসিংহ মহাসড়ক-সংলগ্ন পশ্চিম পাশে আমার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে একটি পেট্রোল পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। সে সময় আমার অগ্রজ আব্দুল মান্নান প্রস্তাবিত পেট্রোল পাম্পে অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে, পেট্রোল পাম্প স্থাপন ও নির্মাণের মোট ব্যয়ের ৪০ ভাগ তিনি বহন করবেন। সে অনুযায়ী, পাম্প চালুর তারিখ থেকে পরবর্তী ১২ বছরের জন্য আব্দুল মান্নানের ৪০ ভাগ এবং আমার ৬০ভাগ অংশীদারত্ব নির্ধারণপুর্বক ২৫/১০/২০১১ ইং তারিখে আমরা একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হই। উক্ত চুক্তির শর্তানুসারে, পেট্রোল পাম্পের আওতাধীন আমার ক্রয়কৃত ও স্বত্ব-দখলীয় জমি থেকে ৬ শতাংশ জমি আব্দুল মান্নানের নামে ৮৮১৩ নং হেবা দলিলমূলে প্রদান করি। কিন্তু পাম্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর আব্দুল মান্নান তাঁর প্রতিশ্রুত ও নির্ধারিত ৪০ভাগ নির্মাণ ব্যয় প্রদান করতে ব্যর্থ হন। একই সঙ্গে পারিবারিক অনীহার কারণে তিনি যৌথ মালিকানায় ফিলিং স্টেশন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় তাঁর অপারগতা প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায়, আমি সম্পূর্ণ একক উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে  আমার নিজ নামে ফিলিং স্টেশন প্রতিষ্ঠার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করি। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহ থেকে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ও অনুমতিপত্র আমার নিজ নামে সংগ্রহ করি এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ফিলিং স্টেশনের যাবতীয় অবকাঠামো নির্মাণ করি। সেই সময় থেকে অদ্যাবধি আমি একক মালিকানায় মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করে আসছি।

‎পরবর্তীতে, বিগত ০৮/০৮/২০১৭ ইং তারিখে আব্দুল মান্নান পূর্বে তাঁকে প্রদান করা ০.০৬ শতাংশ জমি ১৩৬২ নং হেবা দলিলমূলে আমার বরাবরে ফেরত প্রদান করেন। এর মাধ্যমে উক্ত জমির ওপর তাঁর যাবতীয় স্বত্বের অবসান ঘটে এবং জমি ও ফিলিং স্টেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সম্পূণরুপে নিঃস্বত্ববান হন। বাস্তব ঘটনা, বৈধ দলিলপত্র, সরকারি অনুমোদন, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘদিনের একক পরিচালনার মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট ও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশনের প্রতিষ্ঠা, অর্থায়ন, মালিকানা ও পরিচালনা সম্পূণরুপে আমার একক। যা বহু বছর আগেই সম্পূর্ণভাবে মীমাংসিত।এতদসত্ত্বেও একই মীমাংসিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে বছরের পর বছর বারবার বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সামনে হাজির হতে এবং একই অভিযোগের জবাব দিতে বাধ্য করা হয়েছে। ‎এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিগত ১৭/০৮/২০২৩ ইং এবং ১৫/১২/২০২৫ ইং তারিখে দুইবার ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এ ছাড়া, ০৯/০৯/২০২৪ ইং এবং ১০/০৯/২০২৫ ইং তারিখে দুইবার ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর উপস্থিতিতে একই বিষয় নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২৩/০৩/২০২৫ ইং তারিখে র‌্যাব-১৪, ময়মনসিংহের কার্যালয় থেকে আমাকে নোটিশ প্রদান করা হয় এবং সেখানে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া, ২৭/১০/২০২৪ ইং তারিখে আমাকে একটি আইনজীবী নোটিশ প্রদান করা হলে আমি ২৪/১১/২০২৪ ইং তারিখে উক্ত নোটিশের যথাযথ ও আইনসম্মত জবাব প্রদান করি। একই মীমাংসিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে একবার বা দুইবার নয়, বছরের পর বছর ধরে বারবার বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও শুনানির সম্মুখীন করা হয়েছে। প্রতিবারই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে উপস্থিত হয়েছি এবং আমার মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র, তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছি।

‎আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে কোনো মীমাংসিত বিষয়কে বারবার উত্থাপন করা হলে একজন ব্যবসায়ীর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, সামাজিক মর্যাদা এবং মানসিক শান্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া, বদরুদ্দোজা হায়দার অভি নামের একজন আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিসহ ব্যবসায়িক ক্ষতিসাধনেরও হুমকি প্রদান করে। মোজাদ্দেদীয়া ফিলিং স্টেশন আমার একক উদ্যোগে, আমার একক অর্থায়নে এবং আমার নিজ নামে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি অদ্যাবধি একক মালিকানায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছি। এর বিপরীতে কোনো ভিত্তিহীন দাবি বা অপপ্রচার সত্যকে পরিবর্তন করতে পারে না।

‎আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং এই দীর্ঘদিনের হয়রানির স্থায়ী অবসান কামনা করছি।