এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার দুইজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৭ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম | প্রকাশ: ৭ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার দুইজন রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তও চলছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাখাওয়াত ইমতিয়াজ তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট জিআর শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাহাজ উদ্দিন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন নুরুল ইসলাম (৫২) ও মো. সজিব (৩২)। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ২টার দিকে সাভার পৌরসভার আনন্দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ওই ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সজিবকে স্থানীয় পর্যায়ের যুবলীগ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, “আমরা রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দিই না। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করাই আমাদের কাজ।”

মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভার পৌরসভার তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা শেষে সমাবেশ চলাকালে মঞ্চের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন, তাদের মধ্যে দুইজন সাংবাদিকও ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরকের টিনের কৌটার অংশ, লাল স্কচটেপ, তারপিন ও বালুমাটি জব্দ করা হয়।

তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি সমাবেশ শুরুর আগে এবং চলাকালে ঘটনাস্থল ও আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। পুলিশ বলছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পরিকল্পনা, অন্য জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং বিস্ফোরণের নেপথ্যের তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হতে পারে।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, গভীর রাতে বাসা থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়েছে এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, “বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তবে এর সঙ্গে আসামিদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে