ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে মোবাইল ফোন করে ‘আপনার ছেলে মাদকসহ আটক হয়েছে, মামলা এড়াতে চাইলে এখনই বিকাশে টাকা পাঠান’- এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রতারণার শিকার শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধিসহ ১৫ থেকে ২০ জন ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে এ ঘটনায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতারকরা নিজেদের জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের মোবাইলে কল করেন। তারা দাবি করেন, শিক্ষকদের সন্তানদের মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা থেকে রেহাই পেতে হলে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে, অন্যথায় তাদের কারাগারে পাঠানো হবে। সন্তানের নাম-পরিচয় উল্লেখ করে বিশ্বাস অর্জনের পর শুরু হয় টাকা আদায়ের চাপ।
প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে ঘোড়াঘাট উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ধাপে ধাপে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা পাঠান। একইভাবে নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার পাঠান ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাফুজা বেগম পাঠান ৪১ হাজার টাকা। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারেন, তাদের সন্তানদের আটক হওয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর প্রতারকদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, শাহিনা বেগম, নাজমুননাহার ও শাহজাহান আলী। এছাড়া আরও ১৩ থেকে ১৪ জন শিক্ষক একই ধরনের ফোনকল পেলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তারা কোনো টাকা পাঠাননি। প্রতারকরা তাদের কাছেও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছিল বলে জানা গেছে।
প্রতারণার শিকার প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার বলেন, “আমার ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করে। ফোনে বলা হয়, তাকে ২১ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে মারধর করা হয়েছে। ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে বলে কয়েক দফায় বিকাশে টাকা পাঠাই। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি, এটি একটি প্রতারণা।”
উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।” ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ফোনকল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট থানার পরামর্শ নেওয়া উচিত।”