জামালপুরের ইসলামপুরে উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরোধের জেরধরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাবের গাড়ি ভাঙচুর করতে গিয়ে ভূলবসত উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু র ব্যবহৃত গাড়িও ভাঙচুরের গঠনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় ইসলামপুর ডাকবাংলোতে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক পরামর্শ সভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাবের ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাব অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর বড় মেয়ে নাফিসা শাফিস বিন্তী দলীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে একক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকার সুবাদে ঠিকাদারি কাজ, টিআর, কাবিখা, খাল খননসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বিন্তী। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।তারজেরধরে গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐদিন উপজেলার মলমগঞ্জ মডেল কলেজে একটি সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, অনুষ্প্রঠানে ধান অতিথি ছিলেন এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। এক পর্যায়ে এমপি কন্যা বিন্তীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসমত ও পৌর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসানের সঙ্গে অপর পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
এরপর সন্ধ্যায় ইসলামপুর ডাকবাংলোতে নবনিযুক্ত ইউএনও, ওসি এবং দলীয় নেতাদের নিয়ে পরামর্শ সভা চলাকালে বিন্তির সমর্থকরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাবের গাড়ি ভেবে প্রথমে ভূলবসত সুলতান মাহমুদ বাবু এমপির ব্যবহৃত নোয়া গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় পরে সেখানে থাকা নূরুল ইসলাম নবাবের গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ডাকবাংলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের স্পষ্ট করা দরকার। এ ঘটনার পর দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, নতুন ইউএনওর যোগদান উপলক্ষে ডাকবাংলোতে একটি পরিচিতি সভায় অংশ নিয়েছিলাম। সভা চলাকালে কে বা কারা আমার গাড়িটি ভাঙচুর করেছে। ঘটনার পর আমি ওসিকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যবহৃত দুটি গাড়িই ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।