ধর্ম যার যার, উৎসব সবার শ্লোগানকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুনামগঞ্জ পুজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাসুদেব ধর বলেছেন, “পূজা উদযাপন পরিষদ এমনি এমনি গড়ে ওঠেনি। সনাতন সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। নানা সময় নানা প্রতিকূলতা ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হলেও আমরা পিছিয়ে যাইনি।” শনিবার (১১ জুলাই) সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণতোষ আচার্য্য শিবু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ, সুনামগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দীপক চন্দ্র ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মলয় চক্রবর্তী রাজু, জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী এবং জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রাধাকান্ত সূত্রধর।
বাসুদেব ধর বলেন, “এই সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন আপনাদেরই এলাকার কৃতী সন্তান মেজর সি. আর. দত্ত ও প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অনেক গুণী ব্যক্তি। তাঁদের আদর্শকে ধারণ করেই সংগঠন এগিয়ে চলছে।” তিনি বলেন, “অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সে সময় পূজা উদযাপন পরিষদ আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও সনাতনীদের অধিকার রক্ষায় আমরা সোচ্চার থাকব।” সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশায় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আমরা আশা করি, সরকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “এ দেশ আমাদেরও। আমরা এ দেশেরই সন্তান। তাই অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে প্রতিবাদ করতে হবে।” সম্মেলনে তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বাসুদেব ধর বলেন, “সংগঠনের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আনতে হবে। তরুণরা যেন কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়। মেজর সি. আর. দত্ত যে আদর্শ ও দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, তা আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।” সকালে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ সময় বক্তব্য দেন জেলা সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গপদ দাস, আরতি তালুকদার কলীসহ জেলার ১২টি উপজেলা ও ৪টি পৌর শাখার সভাপতি ও আহ্বায়করা।
বক্তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নতুন কমিটিতে তরুণ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী হয়। অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলার প্রয়াত নেতাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সংগঠনেরসাধারণ সম্পাদক। এর আগে, সকাল ১১টায় জাতীয় পতাকা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর। সাংগঠনিক পতাকা উত্বোলন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ বিভিন্ন উপজেলার সভাপতি ও আহ্বাকরা।