জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর অফিস থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গত ২৫ জুন ও পরবর্তী সময়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) ক্ষেতলাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল গ্রামের সাইদুল মণ্ডলের ছেলে সাজু মণ্ডল (২৬) ক্ষেতলাল পৌর এলাকার বটতলী বাজারের জনৈক মিজানুর রহমান মণ্ডলের ভবনের পঞ্চম তলায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে বৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠানোর (ভিসা) ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রাম সম্পর্কের প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তিনি কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল গ্রামের আবু কালামের ছেলে আল-মাজিদ (৩১)-কে তাঁর ব্যবসায়ের ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন এবং সমস্ত হিসাব-নিকাশ ও রেজিস্টারের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
ভূক্তভোগী সাজু মণ্ডল চাকুরি জনিত কারণে ঢাকায় অবস্থান করায় অফিসের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আল-মাজিদের ওপর ন্যস্ত ছিল। বিগত প্রায় এক মাস যাবত ম্যানেজার মজিদের সাথে কোনো যোগাযোগ না হওয়ায় গত ২৫ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় সাজু মণ্ডল তাঁর বটতলী বাজারের অফিসে এসে দেখতে পান অফিসটি সম্পূর্ণ ফাঁকা। অফিসে রাখা প্রায় ৪১ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্রিজ, ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ, ৪৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্রজেক্টর এবং তার নিকট থাকা নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে গায়েব রয়েছে। এছাড়া ম্যনেজার মাজিদ পূর্ব শত্রুতার জের বা চুরির উদ্দেশ্যে সরলতার সুযোগ নিয়ে এর আগে ধার হিসেবে আরও ৯০ হাজার টাকা গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করেছেন। সবমিলিয়ে নগদ টাকা ও মালামালসহ প্রায় ৭ লক্ষ ৯ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ম্যানেজার মাজিদ পলাতক রয়েছেন। ভবন মালিক মিজানুর রহমান জানান, ম্যানেজার মাজিদ উক্ত মালামালগুলো সাজু মণ্ডলের বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অফিস থেকে বের করে নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তারুল আলম বলেন, "বটতলী বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল ও নগদ অর্থ চুরির বিষয়ে সাজু মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক এবং চোরাই মাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।