প্রতিদিনের খাবারই হতে পারে সবচেয়ে বড় ওষুধ: মজিবুল হক

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
প্রতিদিনের খাবারই হতে পারে সবচেয়ে বড় ওষুধ: মজিবুল হক

দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে শনিবার ১১ জুলাই বেলা ৩ টায়  রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেমিনার। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার।

সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডটঝঞ)-এর ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের অধ্যাপক, দ্য সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন, যুক্তরাষ্ট্র-এর কনসালট্যান্ট এবং আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মজিবুল হক, চযউ, ঘউ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেবনাথ, অর্থ-উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা (পশ্চিম), বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাহাবুবুর রহমান, চেয়ারম্যান, আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার।

প্রফেসর ড. মজিবুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব রোগের পেছনে জিনগত কারণের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত (টষঃৎধ-ঢ়ৎড়পবংংবফ) খাবার, অনিয়মিত জীবনযাপন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, দিনের শুরুটা স্বাস্থ্যকরভাবে করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা বা কফি পান করার পরিবর্তে পর্যাপ্ত পানি পান করা, পুষ্টিকর নাশতা গ্রহণ এবং শরীরকে পর্যাপ্ত জলীয় ভারসাম্যে রাখা সুস্থতার জন্য উপকারী অভ্যাস। তিনি বলেন, অনেক মানুষ প্রতিদিন অজান্তেই এমন কিছু অভ্যাস অনুসরণ করেন, যা ধীরে ধীরে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তিনি বলেন, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার এবং ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্য যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে মৌসুমি ফল, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি, মানসম্মত প্রোটিন এবং পরিমিত স্বাস্থ্যকর শর্করা সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। ডায়াবেটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে শুধু রক্তে শর্করার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থার একটি জটিল পরিবর্তনের ফল। তাই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারাকে চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপন শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (ওহভষধসসধঃরড়হ) সৃষ্টি করতে পারে, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনধারার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বক্তব্যের শেষে প্রফেসর ড. মজিবুল হক বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য আমাদের পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে-সুষম খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা, শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা।" বিশেষ অতিথি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেবনাথ তাঁর বক্তব্যে আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের এ ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সেমিনার মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণে আরও উৎসাহিত করবে। সেমিনারের উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ফ্যাটি লিভার এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রফেসর ড. মজিবুল হক বৈজ্ঞানিক তথ্যের আলোকে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রোগ হওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে