ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম | প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস আজ

ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস আজ, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)। ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ নিহত হন। একই দিনে চট্টগ্রাম ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। সেই রক্তাক্ত ঘটনার পর আন্দোলন নতুন মোড় নেয় এবং পরবর্তী সময়ে তা ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি জাতীয় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কর্মসূচি চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও গুলি চালায়। এতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়। ওই দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

একই দিনে চট্টগ্রামে সংঘর্ষে কলেজশিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ এবং ফার্নিচার কর্মচারী মো. ফারুক নিহত হন। রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষে প্রাণ হারান হকার মো. শাহজাহান ও সাবুজ আলী। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ওই দিন অন্তত ছয়জন নিহত হন।

ঘটনার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি মোতায়েন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়, আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

১৬ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন দ্রুত বিস্তৃত হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, "১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র জনতার সাহসী প্রতিরোধ জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল।"

তিনি আরও বলেন, "বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের দৃশ্যটি কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না, এটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।"

পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম, খুন, ভোটাধিকার হরণ ও দমন পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ।"

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তির উৎস জনগণ। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

গত বছর থেকে ১৬ জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন হিসেবে 'ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস' পালন করা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে