মেহেরপুরের গাংনীতে কুকুরের কামড়ে আহত ২০

এফএনএস (ফারুক আহমেদ; মেহেরপুর) : | প্রকাশ: ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
মেহেরপুরের গাংনীতে কুকুরের কামড়ে আহত ২০

মেহেরপুরের গাংনীতে  বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় এ বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে তারা আহত হয়।  কুকুরের তাণ্ডবে গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ক্ষুব্ধ জনগণ ক্ষোভে একটি কুকুর মেরেও ফেলেছে।

আহতরা হলেন, মো: জিনারুল ইসলাম,ফাতেমা খাতুন,আবেদা খাতুন, রশিদুল ইসলাম, রেকছনা খাতুন,আসলাম হক, আকলিমা খাতুন,নবির হোসেন,জিহাদ আলী, আরিফুল ইসলাম,সাকিবুল হোসেন,জাকির হোসেন,রাফসান আলী,ফাতেমা বেগম,হামিদা খাতুন সহ আনুমানিক ২০ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দিন দিন ভবঘুরে কুকুরের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।আমরা মাঝে মধ্যে শুনতে পায় কুকুরে মানুষকে কামড়িয়ে আহত  করেছে।কিন্তু একসাথে এতো মানুষকে আক্রমণের ঘটনা খুব কমই শোনা যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।যতটুকু জানতে পেরেছি আনুমানিক ২০ জনকে কুকুরে কামড়িয়েছে।গত জুন মাসে পৌর শহরের ১৭ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়।প্রশাসনিকভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কুকুরের কামড়ে আহত মো:জিনারুল ইসলাম  বলেন, ৪ থেকে ৫ টি কুকুর বিভিন্ন বয়সী আনুমানিক  ২০ জনকে কামড়িয়ে আহত করেছে।কুকুরগুলো বিভিন্ন পাড়ায় দৌড়াদৌড়ি করছে। আর সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় দিয়ে আহত করেছে। কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাচ্ছে না।ব্যাপক হারে কুকুর বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে সরকারিভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।আর সরকারি হাসপাতালে ভোগান্তি হবে বলে যায়নি ।ভ্যাকসিন আছে কিনা তাও জানিনা।

তিনি আরও বলেন, আমি একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছি।ভ্যাকসিনও দিয়েছি।আজকে আমার প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখনো কত দিন চিকিৎসা নিতে হবে জানিনা।গ্রামের মানুষ কুকুরের ভয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছে।কুকুরের কামরে আহত হয়েছে তারা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে।

কুকুরের কামড়ে আহত আরিফুল ইসলাম বলেন, কুকুরে কামড়ানোর পর আমরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছি।গ্রামের এত মানুষকে কুকুরে কামড়াবে কেউ  ভাবেনি।এছাড়াও ছাগলকেও কামড়িয়েছে।সরকারিভাবে যদি এর কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে আরো ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে কুকুরগুলো।অনেক আগে সরকারিভাবে কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। কিন্তু এই ভ্যাকসিন আর দেওয়া হয় না কেন তা জানি না।

উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান খান বলেন, চার থেকে পাঁচটি কুকুর এদিক ওদিক দৌড়াদোড়ি করছে।আর বিভিন্ন মানুষকে  কামড়িয়েছে। আমরা যতটুক তথ্য পেয়েছি আনুমানিক ২০ জন মানুষকে আহত করেছে।আমার বাড়ির ছাগলকেও কামড়িয়েছে।এই বেওয়ারিশ কুকুরের খুবই উৎপাত বেড়েছে।বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, বিভিন্ন গ্রামে কুকুরের প্রচুর উৎপাত বেড়েছে।বিভিন্ন মানুষ ও ছাগলকে কামড়াচ্ছে।বাড়িতে ছোট ছোট বাচ্চা আছে।তাদের নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছে মানুষ।আজকে রামনগর গ্রামে অন্তত বিশ জন মানুষকে কুকুর কামড়িয়ে আহত করেছে।আমি আহত কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি তাদের  সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য। 

গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, কুকুরের ভ্যাকসিনেশন এর বিষয়ে কোন বরাদ্দ নেই।জলাতঙ্ক রোধে ২০২২ সালে  দেশব্যাপী কুকুরের ভ্যাকসিনেশন করা হয়েছিল। এর আওতায় আমাদের গাংনী উপজেলা ছিল। তারপর  থেকে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো: একরামুল হক বলেন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন রয়েছে।জানতে পেরেছি আজকে অনেকে কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে।যারা আহত হয়েছে তাদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে হবে।তারা হাসপাতালে আসলে  ভ্যাকসিন পাবে।  এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর পেয়েছি।ঘটনাটি আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে।বেওয়ারিশ  কুকুরের বিষয়ে সরকারি যে বিধি রয়েছে সেই বিধি  অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য: গত ১৪ জনু গাংনী পৌর শহরে বিভিন্ন বয়সী কুকুরের কামড়ে আহত হয় ১৭ জন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে