বরিশালের নদীবেষ্টিত মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন ও বন্যার পানি বৃদ্ধিতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। উপজেলার চরকালেখা, সফিপুর, নাজিরপুর, বাটামারা, কাজিরচরসহ নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অব্যাহত নদীভাঙনে একের পর এক বসতভিটা, কৃষিজমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের গতি আরও বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। অনেকেই বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করলেও এখন তাদের আর টিকে থাকার মতো কোনো উপায় নেই। বসতভিটা হারিয়ে শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নাজিরপুর এলাকার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবার সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পেয়েছেন। তবে এই সাময়িক সহায়তা তাদের দীর্ঘমেয়াদী দুর্ভোগ লাঘবের জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং সর্বোপরি স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছরই নদীভাঙনে মুলাদীর বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হচ্ছে। ভাঙন রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে নদীভাঙন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বরিশালের মানচিত্র থেকেই মুলাদী উপজেলার বড় একটি অংশ হারিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সমাজসেবক মো. নুরুল হক খান বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি দ্রুত নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের পুনর্বাসন এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, "আমরা ত্রাণ নয়, বাঁচার নিশ্চয়তা চাই। আমাদের ঘরবাড়ি ও বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের মুলাদী উপজেলাকে রক্ষা করুন। নদীভাঙনের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের বাঁচান।" এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে মুলাদীর হাজারো পরিবার নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং তাদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ রক্ষা পায়।