নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এমন পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল এমপির পদ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদি তিনি এমপি পদ হারান, তবে সেই আসনে আসনের উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আলোচিত-সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।
এক অডিওবার্তায় হিরো আলম বলেন, “আমার অনেক দিনের স্বপ্ন, এমপি হবো। আমি চেয়েছিলাম, যদি কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আমি দাঁড়াবো। গত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এখন যেখানেই উপনির্বাচন হবে, সেখানেই আমি দাঁড়াবো। দেখি সুষ্ঠু নির্বাচনেও আমাকে মারে কি না। আমার ওপর জামায়াত অ্যাটাক করে, বিএনপি অ্যাটাক করে নাকি এনসিপি অ্যাটাক করে। কয়েকবার নির্বাচনে আমি লড়েছি, পাশও করেছি, এবার উপনির্বাচনে দেখি জনগণ কী করে।”
এর আগে একাধিকবার এমপি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন আশরাফুল আলম। ভোটকেন্দ্রে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সেসব নির্বাচনকে বিতর্কিত অ্যাখ্যা দিয়ে বর্জন করেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে ‘আমজনতা’ দল থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন তিনি। পরে আর ওই নির্বাচনে অংশ নেননি তিনি। এর আগে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
বগুড়ার ক্যাবল ব্যবসায়ী থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তারপর রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা! বহুবার, দেশে, বিদেশে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। কটাক্ষ, আলোচনা, সমালোচনায় জারজার আশরাফুল আলম ধৈর্য ধরে লেগে আছেন। দেখা যাক, এমপি হওয়ার স্বপ্ন তার পূরণ হয় কি না।
এর আগে বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না এবং সংশ্লিষ্ট আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে কি না-তা এখন নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।