ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় এক নারী বিক্ষোভকারীকে থাপ্পড় মারার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অ্যাডিশনাল ডিসিপি) সন্দীপ লাম্বাকে যন্তর-মন্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ জুলাই, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সিজেপির ডাকা ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজারো আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। এ সময় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে সন্দীপ লাম্বাকে এক নারী বিক্ষোভকারীকে থাপ্পড় মারতে দেখা যায়।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক রাজ্যসভা সদস্য সাকেত গোখলে জানিয়েছেন, তিনি সন্দীপ লাম্বার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, “গতকাল দিল্লি হাইকোর্টে সরকার বলেছিল, পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে কেউ এফআইআর করতে আসেনি। তাই আজ আমি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি।”
হাইকোর্টে উঠে আসে কর্মকর্তার নাম
বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে সিজেপি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবী গোপাল শঙ্করণারায়ণন আদালতের সামনে সন্দীপ লাম্বার নাম উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ভিডিওতে দেখা যায় অতিরিক্ত ডিসিপি সন্দীপ লাম্বা কোনো প্রতিরোধ না করা এক নারীকে থাপ্পড় মারছেন। তার ভাষায়, “ইউনিফর্ম পরা এমন ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জলকামান ব্যবহার না করে পুলিশ সরাসরি টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং পরে লাঠিচার্জ চালায়।
হাইকোর্টের নির্দেশ
প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজাস কারিয়ার বেঞ্চ দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্র সরকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) নোটিশ জারি করেছে।
আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাসংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।
‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে সংঘর্ষ
বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন ২০ জুলাই, পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সিজেপির হাজারো সমর্থক সংসদমুখী মিছিলের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।
বিক্ষোভকারীরা মূলত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (ঘঊঊঞ)-এ অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন।
পুলিশের দাবি, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে সংঘর্ষে কয়েকজন বিক্ষোভকারী এবং প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সিজেপির দাবি
ঘটনার পর সিজেপির দুই মুখপাত্র কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, অভিজিৎ দিপকে গত মে মাসে ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এটি প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনে পরে যোগ দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন। স্বাস্থ্যগত অবনতির কারণে তাকে পরে আদালতের নির্দেশে গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি