গাজীপুরের কাপাসিয়ার চাঁদপুর বাজারের পাশে ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বে অবৈধ শিশু কিশোর আনন্দমেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় অর্ধশতাধিক মানুষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁদপুর বাজারের পশ্চিম পাশে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে শিশু কিশোর আনন্দ মেলার নামে একটি অবৈধ মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখানে ৪টি বিভিন্ন রাইড ও প্রায় ৩০টি স্টল স্থাপন করা হচ্ছে। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা চলমান অবস্থায় এ জাতীয় মেলার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মারাত্মক অসুবিধা হবে। তাছাড়া সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে যাওয়ার এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা বলেন, চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান এ বছর স্থানীয় চাঁদপুর বাজার ইজারা নিয়েছেন। সেই সুবাদে তার ছেলে তারেক রহমান দুর্জয় এলাকার স্থানীয় ২৫-৩০ জন বখাটে কিশোরকে নিয়ে এ মেলার আয়োজন করেছে। ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী এ মেলা আয়োজনের ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় তা আয়োজন করতে নিষেধ করেন।
এ বিষয়ে গত বুধবার রাতে তারেকের নেতৃত্বে কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা সিনিয়র নেতাকর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি, অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেলা আয়োজন করলে যে কোন সময় বড়ো ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। যেহেতু প্রশাসনের অনুমতি নেই এবং পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি থাকবে না, তাই এ মেলার আয়োজন কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না।
এ ব্যাপারে মেলার আয়োজক তারেক হোসেন দুর্জয় জানান, স্থানীয় শিশু ও কিশোরদের আনন্দ দিতেই এ মেলার আয়োজন। প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলেও এখনো অনুমতি মিলেনি। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি তার লোকজন দিয়েই রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত একমাস যাবত পাশ্ববর্তী দুর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন বালির মাঠে শিশু কিশোর আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনিয়ে শুরু থেকেই এলাকাবাসী আপত্তি ছিলো। ওই মেলায় আপত্তিকর নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ, লটারি, জুয়া, মাদক, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মারামারি ও মামলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে সচেতন অভিভাবক মহলের আশংকা বর্তমানে ভরা বর্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে এধরণের ক্ষতিকর মেলা বসানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এলাকাবাসী এ মেলা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।