সরকারের আশ্বাসে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

এফএনএস আন্তার্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ২৪ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
সরকারের  আশ্বাসে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে টানা ২৬ দিন অনশনের পর অনশন ভেঙেছেন লাদাখের সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তরল খাবার খেয়ে অনশন ভাঙেন তিনি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সোনমের পাশে এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংকে দেখা যায়। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমোও পাশে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সোনম বলেন, “আমি অনশন ভাঙতে পেরে খুবই কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ। পাশাপাশি সবাইকে সহিংসতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাই।”

সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে সংসদে আলোচনা করার বিষয়েও লিখিত আশ্বাস পেয়েছেন তিনি। নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও জানানো হয়েছে।

গত ২৮ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তরুণদের রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেন। সংগঠনটি নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছে।

অনশন শুরুর পর ২০ দিন যন্তর মন্তরেই ছিলেন সোনম। ২১তম দিনে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দিল্লি পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশে সোনমকে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দীর্ঘ অনশনে সোনমের ওজন ১১ কেজি কমেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। অনশন ভাঙার আগে সরকারের সঙ্গে লিখিত আশ্বাস নিয়ে দুই দিন ধরে আলোচনা চলেছে বলেও জানান তিনি। সোনম বলেন, “আমি লিখিত আশ্বাস চাইছিলাম। এটি পেতে দুদিন সময় লেগেছে। তাই আমাকেও আরও দুদিন অনশন করতে হয়েছে।”

সোনমের অনশন ভাঙার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে আগের ওজন ফিরে পাওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থামছে না। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রোর ১৭টি স্টেশন নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিহারের কয়েকটি জেলাতেও পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বলপ্রয়োগের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে সোনম ওয়াংচুক শুরু থেকেই আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। অনশন ভাঙার পরও তিনি আন্দোলনকারীদের সহিংসতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “প্রতিপক্ষ যা-ই করুক না কেন, আমাদের প্রতিক্রিয়া হতে হবে শুধুই ফুল।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে