ইয়েমেনে হুথিদের উপর ব্যাপক হামলা সৌদি আরবের

এফএনএস (অনলাইন ডেস্ক): | প্রকাশ: ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ইয়েমেনে হুথিদের উপর ব্যাপক হামলা সৌদি আরবের

ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা এবং সৌদি জাহাজে হামলা চালানোর পর গতকাল শুক্রবার ইয়েমেনের বন্দরনগরী হোদেইদা ও কাছের একটি দ্বীপে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।

আজ শনিবার ভোরে পাল্টাপাল্টি হামলার পর হুথিদের আনসারুল্লাহর গণমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করে, ‘‘হোদেইদা ও কামারান দ্বীপে বেসামরিক স্থাপনায় সৌদি শত্রুর হামলা একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।’’

তারা আরও বলেছে, ‘‘আমরা নিশ্চিত করছি, সাম্প্রতিক এসব অপরাধের জবাব দেওয়া হবে।’’ সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পরে হুথিরা জিজান শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জিজান প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি করে। শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে হুথিদের আনসারুল্লাহর গণমাধ্যম টেলিগ্রামে জানায়, একটি ‘ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়’ সৌদি শহর জিজানে আগুন ধরে যায়।

এদিকে, ইয়েমেনের হুথিদের পক্ষ থেকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে হুমকি বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

তবে শুক্রবার বিকেলে তেলের দাম আবার কমে যায়। রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ৪ মার্কিন ডলারের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ মার্কিন ডলারের কিছু ওপরে নেমে আসে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চীনা ভাড়ায় পরিচালিত দুটি সুপারট্যাংকার নিরাপদে পার হয়ে যাওয়ার পর এই দরপতন ঘটে।

এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শুক্রবার (২৪ জুলাই) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটি তখন ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল।

চলতি মাসের শুরুতে ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের অচল করে দেওয়া দ্বিতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ এটি।

মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স এএফপিকে বলেন, ‘‘জাহাজটির ক্রুরা এর আগে অন্তত চারবার অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার পর আমরা ট্যাংকারটি অচল করে দিই।’’

তিনি বলেন, ‘‘ক্রুদের বারবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তারা তা মানেনি। পরে ঘটনাস্থলে থাকা মার্কিন বাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। জাহাজটি এখন আর ইরানের দিকে যাচ্ছে না।’’

এর আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের একটি প্রতিনিধি দল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। হরমুজ প্রণালিটির দক্ষিণ উপকূল ওমানের নিয়ন্ত্রণে।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইরান জানিয়েছে, দেশটির ওপর টানা ১৩তম রাতের মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি জানান, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমার মনে হয়, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমার মনে হয়... আমরা তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আন্তরিকতা দেখছি। তবে তার মানে এই নয় যে আমরা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।’’

ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কৌশল কী— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘‘একটি সামরিকভাবে বের হওয়ার পথ হলো— আমরা যেভাবে এগোচ্ছি সেভাবেই চালিয়ে যাওয়া। এমনকি আমরা আরও বড় মাত্রায় হামলা চালাতে পারি এবং তাদের যা কিছু আছে, সব ধ্বংস করে দিতে পারি। অথবা আরও বুদ্ধিমান কৌশল হলো— একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।’’ তবে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা যেকোনো সময় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’’

বার্তা সংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একটি সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন অংশ নেবেন। অ্যাক্সিওস প্রথম এ সম্মেলনের খবর প্রকাশ করে।

এদিকে, আগামী মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়।

তবে ওই সমঝোতা স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহ পর হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজে হামলা এবং এর জবাবে মার্কিন হামলার পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে ঘোষণা করেন। ইরানও চুক্তি থেকে সরে আসে।

তথ্যসূত্র: বিসিসি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে