আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে খাল পরিষ্কার কার্যক্রমে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছেন বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহীদুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামী বুধহাটা শাখার সদস্যরা। শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর ৬ টা হতে দুপুর ১২.৫০ টা পর্যন্ত বুধহাটা পশ্চিমপাড়া ও হাবাসপুর এলাকা থেকে শুরু করে বুধহাটা পূর্বপাড়ার স্লুইস গেট পর্যন্ত পরিস্কার করা হয়।
উপজেলার বুধহাটা বাজারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বেতনা নদী সংযুক্ত খালের দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নেন বুধহাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহিদুল ইসলাম। সরেজমিনে দেখা যায়, এড. শহিদুল ইসলাম নিজে শ্রমিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে খালের ময়লা- আবর্জনা অপসারণে অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের বিভিন্ন বর্জ্য ও আবর্জনা ফেলার কারণে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে পড়েছিল। এতে পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে বুধহাটা, কুল্যা, হাবাসপুর, কুলতিয়া, চাঁদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। ফলে বর্ষা মৌসুমে ঘরবাড়ি, উঠান ও সড়কে পানি জমে জনজীবন চরম দুর্ভোগে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় মানুষের বসতঘরেও পানি ঢ়ুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে থাকে। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এড. শহিদুল ইসলাম নিজস্ব অর্থায়নে খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চলমান এ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এসময় কচুরিপানা, ঘাস ও লতাপাতায় ভরা খাল পরিষ্কার করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। বুধহাটা অনতাকুড় বিলের পানি ও হাবাসপুর বিলের পানি নিস্কাশনে দক্ষিণ বিল, কামারকুড় বিলের পানি (আংশিক) ও কুল্যার মোড়ের পাশের বিলের পানি নিস্কাশনে স্লুইস গেট ও খাল নিজস্ব অর্থায়নে পরিষ্কার করেন সাতক্ষীরা জজকোর্টের এপিপি ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী এড শহিদুল ইসলাম। এ সময় ওয়ার্ড জামাতের সভাপতি আবুল কালাম, যুব বিভাগের সেক্রেটারি আজাহারুল ইসলাম, বুধহাটা ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি শওকাত, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, মাজেদ, রবিউল ইসলাম, ইউনুস, নজু, ইসলাম, মিলন, আহসান, রিজাউল ইসলাম প্রমূখ তার সাথে ছিলেন। এড. শহিদুল ইসলাম বলেন, “জনগণের কষ্ট দেখে আমি চুপ করে থাকতে পারিনি। এই খালটি পরিষ্কার হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে। মানুষের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সবাইকে সচেতন হয়ে খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এ উদ্যোগকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই জনস্বার্থে এ ধরনের স্বেচ্ছাশ্রম মূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।