কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলাটি একটি প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। এ উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। হাওড় বেষ্টিত এ উপজেলা প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এ উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের পাটুলী ফেরিঘাটে পর্যটন শিল্প খুলে দিতে এক সম্ভাবনার ধার। জানা গেছে এ অঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশদার বলে খ্যাত। তবে এর নৈর্শর্গিক দৃশ্য ও ঘোড়াউত্রা নদীর পাড়ে একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। বর্ষাকালে বিস্তৃণ হাওড়ের জল রাশি, নৌকা ভ্রমণ, সূর্যদ্বয় ও সূর্যাস্থ ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য প্রচুর পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। এটি একটি অপূরুপ সুন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। হাওড়ের প্রতিটি ক্ষণ উপভোগ্য। পাকা ধান ঘরে তোলার মৌসুমে প্রকৃতির নতুন রূপ আর হাওড় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা সারলতায় ভরপুর। হাওড় বাসীদের গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান, হাঁসের খামার, মহিষের বাতান, সব মিলিয়ে নিম্নাঞ্চলের মানুষের এ যেন সৃজনশীলতার মোহমায়া। শীতকালে এ অঞ্চলে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে অতিথির অবাধ বিচরণ। বর্ষায় হাওড়ে ছোট ছোট দ্বীপের মতো বাড়ী ঘর সূর্যাস্থের এর আগে এ অঞ্চলকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে। গোধলীর শেষ বেলায় পানকৌড়িদের সারীবেধে নিরে ফেরা কিংবা মায়াবী স্নিগ্ধতা দূর আকাশ বেয়ে নেমে আসে জোস্নার হৃদয়কাড়া সুন্দর্য। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভী বাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও বি-বাড়ীয়া। এ ৭টি জেলার ৭ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর জলা ভূমিতে ৪২৩টি হাওড় নিয়ে এ হাওড় অঞ্চল গঠিত। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ১৩৩টি ও কিশোরগঞ্জ জেলায় ১২২টি হাওড় রয়েছে। বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের ঘোড়াউত্রা নদীর অববাহিকায় এ পাটুলী ফেরিঘাট যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশদার হাওড় পর্যটন কেন্দ্রে গঠিত হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা ও বাস্তবায়ন করা গেলে বাজিতপুর হাওড়ে হাওড়ঘেরা পাটুলীঘাট দেশের অন্যতম পর্যটন শিল্পে ভূমিকা রাখতে পারে বলে পরিবেশবিধদের ধারণা। তাই এ পাটুলী ঘাটকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে হাওড়ের ৬টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের জন্য হয়ে উঠতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।