ভোটের বছরেও জাতীয় পার্টির আর্থিক চিত্রে দেখা গেছে উল্টো প্রবণতা। ২০২৫ পঞ্জিকা বছরে দলটির আয় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে আয়ের চেয়েও বেশি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে জাতীয় পার্টির ২০২৫ সালের আয় ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেন দলের অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাতীয় পার্টির মোট আয় হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। ফলে বছরের হিসাবে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হয়েছে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৬৩ টাকা।
সবশেষ ২০২৪ সালে দলটির আয় ছিল ২ কোটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির আয় ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে দলের ব্যাংক হিসাবেও অর্থের পরিমাণ কমেছে। চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্বাক্ষরিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দলের ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা। আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৪ টাকা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, "এ বছর নির্বাচন হওয়ায় আমাদের খরচ বেশি হয়েছে।" তিনি জানান, ২০২৪ সালের স্থিতিসহ ব্যাংকে মোট ২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৪ টাকা ছিল। ২০২৫ সালের ব্যয় শেষে বর্তমানে ব্যাংকে অবশিষ্ট রয়েছে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯২ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, দলীয় প্রতীকে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাঁর ভাষায়, "বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের বাইরে থাকে না। গতবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী দিলেও এবার আমাদের প্রার্থীরা যার যার মতো অংশ নেবেন এবং আমাদের তাতে সমর্থন থাকবে।"
সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিচার দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালে সংবিধানবিরোধী কার্যক্রম করেছিলেন কি না, সেটা দেখার বিষয়। ওই কার্যক্রম না করলে আমরা কেন তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি করব? এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির কোনো মন্তব্য নেই।"
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ ভাঙনের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, দল ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ নেতা জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ফিরে এসেছেন। তাঁর মতে, এ ভাঙনের কোনো প্রভাব তৃণমূল পর্যায়ে নেই এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল ভালো ফল করবে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব নিবন্ধিত দলকে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগের জন্য এ বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়।