চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম | প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী যুবকের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামের সদরঘাটে দশ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় প্রতিবেশী এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি মো. আকতার সর্দার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ।

দণ্ডপ্রাপ্ত আকতার সর্দারের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার কুকড়াপর্শি গ্রামে। তার বাবার নাম সাত্তার সর্দার। বয়স তার ২৭ বছর। ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানা এলাকায় থাকতেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি নগরের মাদারবাড়ি এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা জুতার কারখানায় এবং মা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। প্রতিবেশী হওয়ায় আকতারের ওই পরিবারে নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল এবং তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।

২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুটির মা-বাবা কাজে চলে গেলে বাসায় একা ছিল মেয়েটি। দুপুরে আকতার সেখানে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ভয়ে শিশুটি চারদিন কাউকে কিছু বলেনি। পরে ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা ঘটনা জানতে পারেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরদিন ৭ জুলাই শিশুটির বাবা সদরঘাট থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মোট সাত জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রোববার আদালত এই রায় দেয়।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি আকতার সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তৎক্ষণাৎ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে