বন্ধ ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম | প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ‘যৌক্তিক’ স্থানে স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে ঢাকা, ফেনী ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে ফটিকছড়ি অংশের আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

হরতালের কারণে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে। একই সঙ্গে পেলাগাজী দিঘী থেকে হেয়াঁকো সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা রয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি স্থানে পিকেটিং, বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটকের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়গুলোতে পুলিশের একাধিক দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুরে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মতে, এ স্থান উপজেলার অধিকাংশ মানুষের জন্য সুবিধাজনক নয়। তারা দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো সুবিধাজনক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শাহাদাত হোসাইন বলেন, “জালিয়াতির মাধ্যমে সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপজেলার নাম যখন ফটিকছড়ি উত্তর, তখন সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলে হতে হবে। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”

আরেক আন্দোলনকারী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি উপজেলা সদর রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সদর দপ্তর স্থানান্তর করতে হবে।”

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতালে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে